কোটিপতিদের ‘আইভি থেরাপি’ নিয়ে নতুন হুলস্থুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ১০:০৪ এএম


কোটিপতিদের ‘আইভি থেরাপি’ নিয়ে নতুন হুলস্থুল
কোটিপতিদের ‘আইভি থেরাপি’ নিয়ে নতুন হুলস্থুল।ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে মানুষের শরীরে জমে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই রক্ত থেকে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা কমানোর দাবি করে আলোচনায় এসেছে একটি বিশেষ ‘আইভি থেরাপি’। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জ (টিপিই) নামের এই চিকিৎসা রক্তে ভাসমান মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সার্কুলেট হেলথ। এতে ১১৪ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যাদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বেশি ছিল, একটি সেশন নেওয়ার পর প্রতি ১০০ মাইক্রোলিটার রক্তে প্লাস্টিক কণার গড় সংখ্যা ৫২ দশমিক ২ থেকে কমে ২১ দশমিক ১-এ নেমে আসে। মাঝারি মাত্রার রোগীদের ক্ষেত্রেও প্লাস্টিকের পরিমাণ কমেছে।

থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জ বা টিপিই মূলত একটি এফডিএ-অনুমোদিত চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে রোগীর রক্তের কোষবিহীন তরল অংশ বা প্লাজমার প্রায় ৭০ শতাংশ বের করে ফেলা হয় এবং তার পরিবর্তে অ্যালবুমিন, স্যালাইন ও নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। দীর্ঘদিন ধরে এটি বিভিন্ন অটোইমিউন ও স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সার্কুলেট হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্র্যাড ইয়ংগ্রেন দাবি করেছেন, মানুষের শরীর থেকে প্লাস্টিক অপসারণে সম্ভাব্য কার্যকর কোনো থেরাপি নিয়ে এটিই প্রথম মানবভিত্তিক গবেষণা।

তবে গবেষণায় একটি বিস্ময়কর বিষয়ও সামনে এসেছে। যেসব অংশগ্রহণকারীর রক্তে শুরুতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ কম ছিল, থেরাপির পর তাদের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক কণার মাত্রা সামান্য বেড়ে যায়। গবেষকদের ধারণা, চিকিৎসার সময় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের টিউব ও আইভি সরঞ্জাম থেকেই এই অতিরিক্ত কণা আসতে পারে।

এই চিকিৎসার খরচও বেশ চড়া। একেকটি সেশনের জন্য ব্যয় হয় প্রায় ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ থেকে ১৮ লাখ টাকার সমান। ফলে এটি বর্তমানে দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্যসচেতন ধনকুবের এবং তারকাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এই থেরাপি গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত বায়নো-হ্যাকার ব্রায়ান জনসন, গুপ-এর প্রতিষ্ঠাতা গ্লিনেথ প্যালট্রো, পুরস্কারজয়ী গায়িকা লিয়েন রাইমস, এনএফএল হল অব ফেমার ট্রয় আইকম্যান এবং প্রযুক্তিবিদ পিটার ডায়াম্যান্ডিস।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ কমে গেলেই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে বা আয়ু বাড়বে এমন কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। একইভাবে, বারবার এই থেরাপি গ্রহণ করলে শরীরের সামগ্রিক প্লাস্টিকের বোঝা দীর্ঘমেয়াদে কমবে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।

আরও পড়ুন

বিশ্লেষকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই থেরাপিকে যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে দেখার আগে আরও স্বাধীন ও বৃহৎ পরিসরের গবেষণার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এখনও অনুসন্ধান করছেন, মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বাস্তবে কতটা ক্ষতিকর এবং তা কমানোর জন্য চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ আদৌ প্রয়োজন কি না।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission