ভারতের রাজধানী দিল্লির তুঘলকাবাদ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (১২ জুন) এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। তবে শুরুতে দুর্ঘটনা মনে হলেও পরে সেই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, এটি ছিল দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনা। এ ঘটনায় নিরঞ্জন (৩৩), তার ভাই রাজকুমার (২৭) এবং সরিতা (২৭) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী ও কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্ত দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন মধ্যরাতে ভবনের নিচতলায় পার্ক করা একটি স্কুটারে আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করেছে ওই কিশোরী। সেই আগুন অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনের পঞ্চম তলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এ ঘটনায় আটজনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে পঙ্কজ, সুশীলা দেবী ও সোনিয়া কুমারী নামে তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে একজন কিশোরী ওই ভবনে প্রবেশ করেন। ওই ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিশোরীটি পুলিশকে জানায়, সরিতা তাকে স্কুটারটিতে আগুন দিতে প্ররোচিত করেছিল। স্কুটারটি ছিল দীপকের চাচাতো ভাই নিরঞ্জনের। তিনি ভবনের পঞ্চম তলায় বসবাস করতেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সরিতা ওই কিশোরীকে পেট্রোল ও একটি ম্যাচবাক্সও সরবরাহ করেছিল।
পুলিশের দাবি, অগ্নিসংযোগের পেছনে মূল কারণ ছিল দীপক ও নিরঞ্জনের মধ্যে চলমান আর্থিক বিরোধ। নিরঞ্জন সম্প্রতি অন্য একটি মামলায় কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছিলেন।
পুলিশ ইতোমধ্যে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, অবহেলাজনিত হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশসহ গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এ ছাড়া এই ষড়যন্ত্রে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/ এসকেডি




