ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

তিন নাবিক হত্যার বিচার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমক’ খেলো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। ফাইল ছবি

ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের প্রাণহানির ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে ভারত। ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে দুদেশের সম্পর্ক। দুই দফায় দিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করার পর এবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের।

কিন্তু, ভারতের এই প্রতিবাদে কোনও পাত্তা না দিয়ে বরং কড়াভাবে ধমকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জয়শঙ্করকে ফোনালাপে রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মেনে চলতে হবে।

রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এই ফোনালাপ হয় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের।

এর আগে, চলতি সপ্তাহে দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করে ভারত। প্রথমবার তলব করা হয় ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি সেট্টেবেলো’তে মার্কিন হামলার পর। ওই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও জাহাজটিতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশনা মানেনি ও চলমান মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান উপসাগরে তাদের একটি যুদ্ধবিমান জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ক্রুরা বারবার নির্দেশ অমান্য করায় জাহাজটিকে অচল করে দেওয়া হয়।

এর কিছুদিন পর একই এলাকায় ২০ ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে ভারত।

আরও পড়ুন

পরপর দুইবার তলবের পাশাপাশি জয়শঙ্কর ফোনে রুবিওর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভের কথা জানান। এরপর দুই নেতার আলোচনার ভিত্তিতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন। হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এই দুই মন্ত্রী।

এতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন বাহিনী যে নির্দেশনা দিচ্ছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে তা অবিলম্বে মেনে চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ লঙ্ঘন ও ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

এর আগে, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন যে, তিনি রুবিওর সঙ্গে কথা বলে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ভারতের ‘কঠোর প্রতিবাদ’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি লেখেন, শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছি। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কঠোর প্রতিবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনোভাবেই মানা যায় না।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার ফলে এরই মধ্যে তিন ভারতীয় নাগরিকের ‘দুঃখজনক ও এড়ানো সম্ভব ছিল’ এমন মৃত্যু ঘটেছে।

ভারত আরও জানায়, বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবেদনশীল অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষাকে দুর্বল করে দেয়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন কূটনীতিক জেসন মিকসকে অনুরোধ করে, তিনি যেন ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দেন ও অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এদিকে, মার্কিন বিবৃতি প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতীয় কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি বলেছেন, এই সরকারি মার্কিন বিবৃতি পড়ে আমি গভীরভাবে বিস্মিত। এতে নিরীহ ভারতীয়দের প্রাণহানির জন্য সামান্য অনুশোচনা বা সমবেদনাও প্রকাশ করা হয়নি। একজন বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার কীভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে?

শশী থারুর প্রশ্ন তোলেন, কোনো জাহাজ নির্দেশ না মানলে তাকে থামানোর জন্য প্রাণঘাতী হামলা ছাড়া অন্য কোনো উপায় কি ছিল না? বেসামরিক নাবিকদের না মেরে জাহাজের ইঞ্জিন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো করা কি সম্ভব ছিল না?

ভারতীয় কংগ্রেসের এই নেতা আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজেই ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাহলে কি এখন তারা সবাই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু? এই ধরনের অবস্থান মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতসহ ১০ দেশের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ পেরিয়েছে।
ভারতসহ ১০ দেশের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ভারতের যুদ্ধজাহাজে পাকিস্তানি জাহাজের ধাক্কা, অতঃপর...
পাকিস্তানি জাহাজটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং অপেশাদার ও অনিরাপদ কৌশলে ভারতের যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে যায়, যার ফলে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। 
ভারতের যুদ্ধজাহাজে পাকিস্তানি জাহাজের ধাক্কা, অতঃপর...
ধাক্কা মেরে লেডি বাইকারকে হত্যাচেষ্টা, ঘটনা কী
ভারতের গুরুগ্রামে একজন লেডি বাইকারকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া গাড়িচালক কল্যাণ বৈসলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ধাক্কা মেরে লেডি বাইকারকে হত্যাচেষ্টা, ঘটনা কী
মোবাইলের কিস্তি দিতে না পারায় যুবককে তুলে নিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে মোবাইল ফোনের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এক যুবককে জোর করে তুলে নিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দোকানমালিকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবককে একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে এক ইউনিট রক্ত নেওয়ার পর পাঁচ দিন একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর ও জোর করে কাজ করানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে লখনউয়ের নিগোহা এলাকায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই বাড়ি থেকে যুবককে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে নিগোহার একটি দোকান থেকে ২১ হাজার ৫০০ রুপিতে একটি মোবাইল ফোন কেনেন ওই যুবক। ২ হাজার ৭৯৯ রুপি করে ১২টি কিস্তিতে ফোনটির দাম পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে প্রথম মাসের কিস্তি বাকি পড়ার পরই দোকানমালিক কয়েকজন লোককে তার বাড়িতে পাঠান। তারা যুবকের মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর দুজন ব্যক্তি যুবকের বাড়িতে গিয়ে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যান বলে পরিবারের অভিযোগ। যুবকের দাবি, তাকে লখনউয়ের একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোর করে তার শরীর থেকে এক ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়। পরে তাকে সদর এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। যুবকের অভিযোগ, ওই বাড়িতে তাকে মারধর করা হতো এবং জোর করে বিভিন্ন কাজ করানো হতো। এমনকি তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে লখনউয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ দিন পর ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। আরটিভি/এসকে
মোবাইলের কিস্তি দিতে না পারায় যুবককে তুলে নিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ
কলকাতায় মুসলিম পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ
কলকাতা পুলিশের ৪৭ জন মুসলিম সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে তাদের দাড়ি কামাতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং সদস্যদের চেহারায় সামঞ্জস্য বজায় রাখার যুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় মুসলিম পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ
আরও পড়ুন
ভারতসহ ১০ দেশের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ভারতের যুদ্ধজাহাজে পাকিস্তানি জাহাজের ধাক্কা, অতঃপর...
বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী
এক ম্যাচ হাতে রেখেই ভারতের সিরিজ নিশ্চিত