গত দুই বছরের মধ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আগুন লেগেছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সিএনএন বলছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত মস্কোগামী অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় এটি অনেক বড় হামলা, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা দুই অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কো ছাড়াও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলায় মোট ৫৫৫টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার হামলার জবাবে ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের শহর ও জনপদে রুশ হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্কোর কাপোতনিয়া এলাকার তেল শোধনাগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেখানে ঘন কালো ধোঁয়া এবং বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া রাজধানীর একটি আবাসিক ভবন, একটি ব্যায়ামকেন্দ্র এবং দক্ষিণ রাশিয়ার কিছু অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৩৯টি ড্রোন ছুড়েছে। এতে একটি ব্যক্তিগত বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো, একটি হ্যাঙ্গার এবং তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, সামরিক স্থাপনা, নৌঘাঁটি ও জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে একাধিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইউরোপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সেখানে উত্তর আটলান্টিক জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার সেনা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের জন্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
আরটিভি/জেএমএ



