ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উপকণ্ঠে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় একটি ট্রেনের চালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রেনে থাকা আরোহীদের মধ্যে অন্তত ৮৯ জন গুরুতর ও আংশিক আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এই দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৯০ জনে। লন্ডন থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেডফোর্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেলন্ডন থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেডফোর্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
শনিবার (২০ জুন) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি এই খবর প্রকাশ করেছে।
রেল ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার(১৯ জুন) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কর্বি থেকে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে আসা এবং নটিংহাম থেকে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে আসা দুটি ট্রেনই মূলত দক্ষিণ দিকে লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের অভিমুখে যাত্রা করছিল। বেডফোর্ড শহরের বাইরে দুই ট্রেনের মধ্যে এই তীব্র সংঘর্ষের পর স্থানীয় প্রশাসন ওই এলাকায় একটি বড় ধরনের জরুরি অবস্থা বা ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করেছে।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ঘটনার পর পরই উদ্ধার তৎপরতা চালাতে বিমান অ্যাম্বুলেন্সসহ ইস্ট অব ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের একটি বিশেষ দল, বেডফোর্ডশায়ার পুলিশ এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ইস্ট অব ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস পরবর্তীতে আহতদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন যাত্রীদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া ২২ জন গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন এবং বাকি ৫৬ জন সামান্য আঘাত পেয়েছেন। ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব রেল, মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স বা আরএমটি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এডি ডেম্পসি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে এই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিটি মূলত ট্রেনের একজন চালক ছিলেন।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া পেছনের ট্রেনের আরোহী পিটার ন্যাপ নামক এক যাত্রী নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই হঠাৎ এই সংঘর্ষটি ঘটে। তিনি আরও জানান, ‘এক মুহূর্তের জন্য আমি সামনের চেয়ারে ছিটকে পড়লাম। এর পরপরই চারদিকে শুধু ধোঁয়া দেখতে পেলাম। ট্রেনের ভেতরে মানুষজন আতঙ্কে কাঁদছিল ও চিৎকার করছিল।’ ট্রেনের দরজা ফাঁক করে কোনোমতে বাইরে বেরিয়ে আসা এই যাত্রী আরও বলেন, ‘আমি উঠে দাঁড়িয়ে দেখলাম অনেক মানুষ ভয়ে কথাই বলতে পারছে না এবং অনেকের পা ভেঙে গেছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলের সমান্তরাল একটি সড়কের পাশে অসংখ্য জরুরি উদ্ধারকারী গাড়ির মাঝে ব্যান্ডেজ পরিহিত ও রক্তাক্ত অনেক যাত্রী বসে বা দাঁড়িয়ে আছেন। রেলকর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন আরএমটি ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রেনের কর্মী ও যাত্রীদের এমন মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এদিকে ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশন থেকে আসা এবং যাওয়ার সব ট্রেনের যাত্রা শুক্রবারের জন্য সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছিল। শনিবারের ট্রেনের সময়সূচিও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিশ্চিত করা হবে।
আরটিভি/এআর




