মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস দাবি করেছেন, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের (মার্কিন আইনপ্রণেতা) একটি কমিটির কাছে দেওয়া রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যের প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে এই তথ্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ জুন প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির কাছে গোপন সাক্ষ্য দেন বিল গেটস। সেখানে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে দূরত্ব তৈরির বিষয়ে কথা বলেন।
সাক্ষ্যে গেটস বলেন, তাকে সরাসরি ব্ল্যাকমেইল করা হয়নি, তবে এপস্টেইনের কিছু খসড়া ই-মেইল দেখে তার মনে হয়েছে, তিনি ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইলের পথ খুঁজছিলেন। গেটসের ভাষায়, এপস্টেইন হয়তো নিজে অথবা অন্য কাউকে দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কৌশল অনুশীলন করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এপস্টেইন তাকে কখনো সরাসরি এমন কোনো বার্তা পাঠাননি, যাকে তিনি ব্ল্যাকমেইল বলতে পারেন। তবে প্রকাশিত নথিগুলো দেখে তার কাছে বিষয়টি সেই দিকেই এগোচ্ছিল বলে মনে হয়েছে।
সাক্ষ্যে বিল গেটস দাবি করেন, তিনি কখনো এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে গেটস স্বীকার করেছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা তার জীবনের একটি বড় ভুল ছিল। তিনি আরও জানান, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল, তবে এপস্টেইনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না।
গেটসের দাবি, ২০১১ সালে তার সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় হয়। যদিও তার তিন বছর আগেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে যৌন অপরাধের মামলায় দোষ স্বীকার করেছিলেন এপস্টেইন। গেটস বলেন, তিনি জানতেন এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ ছিল, তবে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেননি, যা এখন তার কাছে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান জেফরি এপস্টেইন। তার মামলার নথিপত্র প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির নাম নথিতে থাকা মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নয়।
আরটিভি/জেএমএ



