লেবাননের সঙ্গে সম্পাদিত নতুন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে নতুন করে ড্রোন হামলা এবং চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রোববার(২৮ জুন) জেরুজালেমে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই চুক্তি কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই ফ্রেমওয়ার্কের ফলে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের নাগরিকেরা দীর্ঘ দিন পর সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে তাদের নিজ নিজ বাসস্থানে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তির বড় জয়।
তবে এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক দাবি করা হলেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহু সরকারের অতি-ডানপন্থী মিত্ররা এই চুক্তিকে ‘হিজবুল্লাহর কাছে আংশিক আত্মসমর্পণ’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নির্মূল না করে এমন চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জন্য বড় নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্য দিকে দেশের একটি বড় অংশ এই চুক্তিকে স্বাগত জানালেও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো একধরনের সংশয় ও শঙ্কা কাজ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে প্রচার করে দেশের ভেতরের রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে চুক্তির পরপরই লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা এবং এর জবাবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চুক্তি বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এই ঐতিহাসিক ফ্রেমওয়ার্কের ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আরটিভি/এআর




