পৃথিবীতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা জাতিসংঘের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৬ এএম


ভয়াবহ বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা জাতিসংঘের
প্রতীকী ছবি

পৃথিবীতে হানা দিয়েছে ভয়াবহ ‘এল নিনো’। আবহাওয়ার চরম এ পরিস্থিতিতে এরই মধ্যে পুড়ছে ইউরোপ। তীব্র দাবদাহে প্রাণ হারাচ্ছে হাজারো মানুষ। স্পেন-ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এর মধ্যেই খবর, শিগগিরই আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে চলমান এই ‘এল নিনো’, যার ফলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়ের শঙ্কা। 

সম্প্রতি এমনই এক সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা (ডব্লিউএমও)। খবর এএফপির।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডব্লিউএমও সতর্ক করেছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দ্রুত শক্তিশালী রূপ নেবে ‘এল নিনো’। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে এর ফলে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে এরই মধ্যে এল নিনোর প্রভাব শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি আরও শক্তিশালী হবে। তাই সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দেশগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ধরন এবং বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এই ঘটনা ঘটে এবং এর স্থায়িত্ব থাকে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস।

ডব্লিউএমওর সবশেষ মৌসুমি জলবায়ু পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাবে। সংস্থাটি এল নিনোকে চারটি মাত্রায় ভাগ করে— দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী ও অত্যন্ত শক্তিশালী। এবারের এল নিনো তৃতীয় স্তর অর্থাৎ ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো আরও শক্তিশালী হলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে খরা, ভারী বৃষ্টিপাত, স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহ বাড়বে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। বিভিন্ন মডেলের পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্য মিল থাকায় এই পূর্বাভাসের বিষয়ে বিজ্ঞানীদের আস্থা অনেক বেশি।

ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক উষ্ণতার অন্যতম কারণ ছিল এই এল নিনো। আবহাওয়ার এই চরম পরিস্থিতির আবির্ভাবের কারণেই ২০২৪ সাল ছিল রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। যদিও এল নিনোর সর্বোচ্চ প্রভাব সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেখা যায়, তবে এর কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব আরও কিছু সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে।

ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষি, স্বাস্থ্যসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতে আগাম সতর্কতা ও মৌসুমি পূর্বাভাস জোরদার করা হচ্ছে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে বিশ্বের অধিকাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও ভারতীয় উপমহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউএমও বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর সংখ্যা বা তীব্রতা বাড়ছে— এমন প্রমাণ নেই। তবে, উষ্ণতর সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি করায় এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

আরটিভি/এসএইচএম

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission