ভারতের বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০১:২২ পিএম


ভারতের বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের
ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের পর এবার দেশটির সামরিক নেতৃত্বও পানি অধিকার রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ভারতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত গত বছর কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর। ওই হামলার জেরে ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যা দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর সম্পর্ককে নতুন করে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইসলামাবাদে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২৭৬তম কোর কমান্ডার্স কনফারেন্সে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা পানি ইস্যুতে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, সরকারি নির্দেশনা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের ন্যায্য পানি অধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির (এনএসসি) পূর্ববর্তী নির্দেশনার আলোকে কৌশলগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। এনএসসি আগেই ঘোষণা দিয়েছে, সিন্ধু নদ ব্যবস্থার পানি প্রবাহ বন্ধ করা বা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো ভারতীয় পদক্ষেপকে তারা ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

এদিকে এক জনসভায় বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত পানি ইস্যুকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রয়োজনে যুদ্ধের মাধ্যমেও পাকিস্তান নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই বৈঠকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সামরিক নেতৃত্ব জানায়, ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’এর আওতায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের প্রতি ইসলামাবাদের ধারাবাহিক সমর্থনের কারণেই সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানকে অবশ্যই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আগের মতো চুক্তি কার্যকর রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী রাভি, সুতলেজ ও বিয়াস নদীর নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে এবং সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ছিল। চুক্তির আওতায় ভারত বর্ষা মৌসুমে পাকিস্তানকে বন্যার আগাম সতর্কবার্তাও প্রদান করত।

তবে চুক্তি স্থগিত থাকায় ভারত এখন আর সেই তথ্য দিতে বাধ্য নয়। একই সঙ্গে সিন্ধু অববাহিকায় সাওয়ালকোট, রাতলে, বুড়সার, পাকাল দুল, কাওয়ার, কিরু ও কিরথাইসহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের কৃষিখাতের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই সিন্ধু নদ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশটির পানি সংরক্ষণ সক্ষমতা মাত্র এক মাসের প্রবাহের সমান। তারবেলা ও মাংলা জলাধারে পানির স্তর কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান গত এক বছরে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো, জাতিসংঘে চিঠি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া শুরুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তান উভয় পক্ষই পানি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে। পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission