ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

জোরালো হচ্ছে ‘এল নিনো’, চরম দুর্যোগের আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
এআই দিয়ে বানানো ছবি

জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, ‘এল নিনো’ শুরু হয়েছে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি দ্রুত শক্তিশালী রূপ নেবে। এর ফলে চলতি বছরের ‘এল নিনো’ আবহাওয়াগত পরিস্থিতির সামগ্রিক শক্তির দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, বন্যাসহ অন্যান্য চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এল নিনোর কারণে মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এল নিনো দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব হয় প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস। এল নিনো ও এর বিপরীত অবস্থা ‘লা নিনা’র মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন ঘটে। মাঝখানে থাকে নিরপেক্ষ পরিস্থিতি।

ডব্লিউএমও’র বরাতে জেনেভা থেকে ৩ জুলাই এএফপি জানায়, জলবায়ুবিষয়ক এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি দ্রুত তীব্রতর হবে। তাই সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দেশগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ বলা হয়েছে, ‘জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাবে।’

সংস্থাটি এল নিনোকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী ও অত্যন্ত শক্তিশালী- এই চার শ্রেণিতে ভাগ করে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি তৃতীয় স্তর অর্থাৎ ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাবে।

ডব্লিউএমও জানায়, ‘ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি দ্রুত শক্তিশালী হবে। এর ফলে বিশ্বের বহু অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বাড়বে।’

ডব্লিউএমওর জলবায়ুবিজ্ঞানী আলভারো সিলভা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত মাসের তুলনায় এখন অনেক বেশি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে যে বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে যদি দেখা যায় এটি আরও তীব্র রূপ নেবে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে ডব্লিউএমও নতুন হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে।

জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, বিভিন্ন বৈশ্বিক জলবায়ু কেন্দ্রের মডেলভিত্তিক পূর্বাভাসে মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ডব্লিউএমও’র মতে, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে মৌসুমি গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। উত্তর গোলার্ধের শরৎকালজুড়ে এল নিনো আরও শক্তিশালী হবে এবং এর প্রভাব বিশ্বের বহু অঞ্চলে বিস্তৃত হবে।

সবশেষ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ সাল রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হয়েছিল। আর ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর, যখন বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব (১৮৫০-১৯০০) সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

এল নিনো সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছে, তবে এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণত পরে আরও স্পষ্ট হয়।

সিলভা বলেন, এল নিনোর প্রভাব চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এবং ২০২৭ সালেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হবে।

কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোকে প্রস্তুত রাখতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ডব্লিউএমও।

সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা এবং অর্থনীতি ও সমাজে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এসব আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এল নিনো ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং দ্রুত শক্তিশালী হবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে বহু অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি, স্থলভাগে তাপপ্রবাহ এবং সমুদ্রে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন

ডব্লিউএমওর হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ অক্ষাংশের ৬০ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সব জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর ঘনঘন সৃষ্টি বা তীব্রতা বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ নেই। উষ্ণতর সমুদ্র ও বায়ুম-ল চরম আবহাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে এল নিনোর কারণে উষ্ণ সমুদ্রের পানি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বাড়াতে পারে। বিপরীতে আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি ও বিকাশ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার পেরু এল নিনোজনিত ভারী বৃষ্টিপাতের ‘আসন্ন ঝুঁকির’ কারণে দেশটির ১ হাজার ৮০০টি পৌরসভার মধ্যে ৮০০টিতে ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটিতে ৯৩ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যা ও ভূমিধসের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: এল নিনোর বছরগুলোতে এশিয়ার অনেক অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক পরিস্থিতি ও খরা দেখা দেয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে ভারতসহ উপমহাদেশের অন্যান্য অংশে কৃষিকাজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত করছেন।

অস্ট্রেলিয়া: এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে, যা সেখানে তীব্র খরা, তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আফ্রিকা: আফ্রিকার ‘হর্ন অফ আফ্রিকা’ অঞ্চলে এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত বাড়লেও দক্ষিণ, পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সাধারণত স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক ও খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়।

দক্ষিণ আমেরিকা: উপকূলীয় পেরু ও ইকুয়েডরসহ পশ্চিম দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। এর বিপরীতে, উত্তর ব্রাজিলে দেখা দেবে শুষ্ক আবহাওয়া, যা আমাজন বনে দাবানলের বড় কারণ হতে পারে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গুলি করে সেনাবাহিনীর মেজরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমোদন ট্রাম্পের
ফোর্ট হুডে ১৩ সেনাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে এই পদ্ধতিতে এটিই হবে প্রথম মৃত্যুদণ্ড।
গুলি করে সেনাবাহিনীর মেজরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমোদন ট্রাম্পের
দুই নৌকার ভয়াবহ সংঘর্ষে কঙ্গোতে নিহত ৩০
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) কঙ্গো নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুই নৌকার ভয়াবহ সংঘর্ষে কঙ্গোতে নিহত ৩০
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দর দুটির বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
ইমরান খানের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন রবি শাস্ত্রি
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাকিস্তান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। এবার সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক রবি শাস্ত্রি। তার মতে, রাজনৈতিক বিষয় বাদ দিলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি  রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। রবি শাস্ত্রি বলেন, ইমরানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই তার প্রাপ্য নয়। শাস্ত্রির মতে, ইমরান শুধু পাকিস্তানের একজন রাজনৈতিক নেতা নন, ক্রিকেটবিশ্বেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। ইমরানের সুস্বাস্থ্য কামনা করে শাস্ত্রি বলেন, ক্রিকেটে তার অবদান অসাধারণ। ইমরানকে নিজের দেখা অন্যতম সেরা নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।  তরুণদের অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমরানের অসাধারণ দক্ষতা ছিল বলে মন্তব্য করেন শাস্ত্রি। তার নেতৃত্বেই তুলনামূলক তরুণ একটি পাকিস্তান দল ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল—সেটিও স্মরণ করেন তিনি। ইমরান কবে কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন, এমন প্রশ্নে শাস্ত্রি আশা প্রকাশ করেন, তিনি দ্রুতই বেরিয়ে আসবেন এবং এরপর তার সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ইমরানের অবস্থাকে অমানবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে যোগ দেন পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন ইমরান।  দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে একাধিক মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান ও তার দল এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।  তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে গত আগস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন ২১ জন সাবেক অধিনায়ক। এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই দাবিতে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের হয়ে ইমরান খান ৮৮টি টেস্ট ও ১৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান খান। ক্রিকেট ইতিহাসে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার হিসেবে তার অবস্থান এখনো অমলিন। আরটিভি/এসআর
ইমরান খানের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন রবি শাস্ত্রি
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামের টিনেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন হালজেন। বেলজিয়ামের কে ইউ লিউভেন থেকে ১৯৬৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন এই বিজ্ঞানী। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে হালজেনকে এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ মেরুর বরফকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হালজেন। তার এই চিন্তাই পরবর্তী সময়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ তৈরির ভিত্তি তৈরি করে।  প্রায় এক ঘনকিলোমিটার আয়তনের বিশাল বরফস্তরের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য আলোকসংবেদী সেন্সর। এসব যন্ত্রের সাহায্যে মহাবিশ্বের দূরবর্তী শক্তিশালী বিভিন্ন উৎস থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়। ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা সামনে আনেন হালজেন। কোনো নিউট্রিনো যখন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেখানে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ মেরুর স্বচ্ছ ও গভীর বরফে স্থাপিত সংবেদনশীল সেন্সরের সাহায্যে সেই আলোর সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণার জন্য দক্ষিণ মেরুর বরফকে উপযোগী করে তোলে এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাইরের নানা ধরনের প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত এই বিশাল বরফস্তর এবং ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা গবেষণার জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে। হালজেনের ধারণা তাই পরবর্তী সময়ে অন্য গবেষকদের সমর্থন পায় এবং দক্ষিণ মেরুতে সেন্সর স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ১৯০১ সাল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই বিভাগে ১১৯ বার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সী নোবেলজয়ী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার পেয়েছিলেন লরেন্স ব্র্যাগ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বয়সে এই পুরস্কার পাওয়া বিজ্ঞানী আর্থার আসকিন। ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেন তিনি। আরটিভি/এসআর
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
আরও পড়ুন
দেশ জুড়ে বজ্রবৃষ্টির আভাস, ভারী বর্ষণের শঙ্কা অনেক জায়গায়
সন্ধ্যার মধ্যে সাত অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে প্রধান কয়েকটি নদীর পানি
রাত ১টার মধ্যে যেসব এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস