ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চীনের বাঁধ, বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারত-বাংলাদেশের জন্য ‘টাইম বোমা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

চীনের এক ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে, তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো ( ব্রহ্মপুত্র ) নদীর ওপর নির্মাণাধীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ঠিক তলদেশে একটি সক্রিয় ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফল্ট লাইনের অস্তিত্ব রয়েছে।

ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, হিমালয় অঞ্চলের এই ফল্ট লাইনটি নির্মাণাধীন মেগা বাঁধের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

হংকং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে’-র তত্ত্বাবধানে মান্দারিন ভাষায় প্রকাশিত ‘সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি’ সাময়িকীতে গত মাসে এই গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

চেংদু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন সেন্টার এবং মিডল ইয়ারলুং সাংপো রিভার ন্যাচারাল রিসোর্সেস অবজারভেশন অ্যান্ড রিসার্চ স্টেশনের চীনা ভূতাত্ত্বিকদের একটি যৌথ দল গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।

গবেষকরা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘পাইঝেন ফল্ট’ নামের এই ভূগর্ভস্থ ফাটলটি প্লাইস্টোসিন বা বরফ যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সক্রিয়। এই সক্রিয়তার কারণে এটি মেদগ কাউন্টির এই মেগা বাঁধ, সংযোগকারী সড়ক, সেতু, টানেল এবং সামগ্রিক কৃত্রিম জলাধারের কাঠামোর ওপর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভস্থ প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এই চ্যুতিটি চারপাশের শিলাখণ্ডগুলোকে পুরোপুরি ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে, যার ফলে মাটির ভেতরের স্তরগুলোর ধারণক্ষমতা ও দৃঢ়তা নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে এই ভঙ্গুর ভিত্তিটি ৬০ হাজার মেগাওয়াটের একটি দানবীয় বাঁধ এবং এর পেছনে জমা থাকা কোটি কোটি গ্যালন পানির ওজন ধরে রাখতে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিনিধি দলটি আরও সতর্ক করেছে, তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি আলগা এবং এর মাটির কণার ভেতরের বন্ধনও খুব দুর্বল। একবার যখন এই বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারে পানি পূর্ণ করা হবে, তখন দীর্ঘস্থায়ী জলীয় সম্পৃক্ততা, ফল্ট লাইনের অবিরত কম্পন এবং ভূমিকম্পের সম্মিলিত প্রভাবে জলাধারের দুই পাশের পাহাড়ে প্রলয়ংকরী ভূমিধস ঘটবে। এই ধরনের ধস সরাসরি বাঁধের মূল পরিকাঠামো ও সেখানে কর্মরত কর্মীদের জীবনকে চরম বিপন্ন করে তুলবে।

তিব্বতে গত বছর থেকে এই মেগা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে চীনের বর্তমান বিখ্যাত থ্রি গর্জেস বাঁধের চেয়েও তিন গুণ বড় এবং এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

আরও পড়ুন

ইয়ারলুং সাংপো নদীটি তিব্বত ছেড়ে ভারতের অরুণাচল ও আসামের ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে যমুনা নদী নামে প্রবেশ করেছে। ফলে ব্রহ্মপুত্রের ভাটিতে থাকা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য এই মেগা বাঁধটি এখন একটি ‘ভূতাত্ত্বিক টাইম বোমা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

চীনা বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা উদ্বেগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, এই বাঁধটি যেখানে নির্মিত হচ্ছে, সেই এলাকাটি মূলত হিমালয় সিসমিক বেল্ট বা ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত। এখানে চীন ও তার আশপাশের অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এই অঞ্চলে একটি স্থায়ী এবং শক্তিশালী ভূমিকম্পের বলয় তৈরি হয়েছে।

গবেষকেরা কোয়াটারনারি যুগের (২৫.৮ লাখ বছর আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত) টেকটোনিক নড়াচড়ার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই পাইঝেন চ্যুতিটি প্লাইস্টোসিন যুগের শুরুতে সৃষ্টি হলেও বর্তমান হলোসিন যুগেও এটি তার সক্রিয়তা বজায় রেখেছে।

এ ছাড়া প্রাচীন হ্রদের তলানির কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাত্র ৯ হাজার ৫০০ বছর আগেও ফাটলটি সক্রিয় ছিল।

গবেষকরা এর আধুনিক ভূকম্পন সম্ভাবনার প্রমাণ হিসেবে ২০১৭ সালে তিব্বতের মিলিনে সংঘটিত ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পটির কথাও উল্লেখ করেছেন, যা ফল্ট লাইনটির উত্তর প্রান্তে ঘটেছিল।

তারা বলেন, ‘আঞ্চলিক ভূমিকম্পের প্রভাবে সহজেই ভূমিধস ও ধস ঘটতে পারে, যা প্রকৌশল স্থাপনা এবং কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি’।

তাই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো সময় এই অঞ্চলে মাঝারি বা বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা তাসের ঘরের মতো বাঁধটিকে গুঁড়িয়ে দেবে এবং এর ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম বন্যা ও ভূমিধস পুরো হিমালয় অঞ্চলসহ ভাটির বিস্তীর্ণ জনপদকে মাটির নিচে চিরতরে চাপা দিয়ে দিতে পারে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন / নেতানিয়াহু-বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে বুথফেরত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু-বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ওয়াশিংটন ডিসিতে রাবি অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকে ড. মেহেদীকে ফুলেল শুভেচ্ছা
ওয়াশিংটন ডিসি এরিয়ায় বসবাসরত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ওয়াশিংটন ডিসি (URAAWDC)- এর পক্ষ থেকে প্রফেসর ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ও আনন্দঘন অনুষ্ঠানে রাবিয়ানদের উপস্থিতিতে এই শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে রাবির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রবাসে তাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ প্রফেসরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রবাসে তাদের এই ধরনের মেলবন্ধন ও ঐতিহ্য ধরে রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত সব রাবিয়ানদের পক্ষ থেকে মাদার বখ্শ হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যালামনাই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জহরুল ইসলাম, সেক্রেটারি আজিমা আজমল (রক্সি), মঞ্জুরুল আলম, এস এম জাহিদূর রহমান, ডা. হাকিম ও হযরত আলী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মির্জা গালিব। আরটিভি/এসএস
ওয়াশিংটন ডিসিতে রাবি অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকে ড. মেহেদীকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাপানের কিংবদন্তি মাঙ্গা শিল্পী তেৎসুয়া চিবা মারা গেছেন
বক্সিং নিয়ে জনপ্রিয় মাঙ্গা সিরিজ ‘আশিতা নো জো’ বা ‘ফাইটিং ফর টুমরো’র স্রষ্টা জাপানের কিংবদন্তি মাঙ্গা শিল্পী তেৎসুয়া চিবা মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। সিরিজটিতে একজন এতিমের পেশাদার বক্সার হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন তিনি।
জাপানের কিংবদন্তি মাঙ্গা শিল্পী তেৎসুয়া চিবা মারা গেছেন
জাতিসংঘের প্রতিবেদন / জোর করে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ রাশিয়ার
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার ও সামরিক চুক্তিতে জোর করে সই করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদনের প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে। রুশ বাহিনী দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিতরণ নেটওয়ার্ক, সাবস্টেশন এবং গ্যাস স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। পাশাপাশি ২৯টি দেশের নাগরিকদের মিথ্যা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে নথিভুক্ত করা হয়েছে।  তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী ও বিভিন্ন দেশের রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতারণা ও বলপ্রয়োগ করে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে ভেড়ানো হয়েছে, যা মানবপাচার ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।  এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ। কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করে। এর মধ্যে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রতারণা ও জোরজুলুমের প্রমাণ পাওয়া গেছে।  তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, জর্ডান, আজারবাইজান, বেলারুশ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বোতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদোর, ঘানা, হন্ডুরাস, ভারত, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, টিউনিশিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সকলেই ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ। তারা মূলত আর্থ-সামাজিক দিক থেকে অনগ্রসর পরিবেশ বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে আসা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব এবং তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা এই মানুষদেরই প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানায় রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্কগুলো। তবে তালিকায় জর্ডানের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, সে দেশের নাগরিকদেরও প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রুশ বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যারা জেনেশুনে ও স্বেচ্ছায় রাশিয়া বা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, তাদের এই তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যে সব অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, প্রতিবেদনটিতে কেবল সেগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসআর
জোর করে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ রাশিয়ার
উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা করে মাংস খাওয়ায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা করে তাদের মাংস খাওয়ার অভিযোগে মুজুরিজি মোজেস নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানান দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা। কাইনেরুগাবার দাবি, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মাসাকা, ইবান্দা ও কাজো জেলায় এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মোজেসকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ধারাবাহিক খুনি ও নরমাংসভোজী আখ্যা দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় তদন্তকারীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজেসের বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে পুরো পরিবারকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ঘটনায় তার কথিত সহযোগীরা পেন্টেকোস্টাল যাজক স্টিভেন মুগাম্বের বাড়িতে গর্ত করে ঢুকে ভেতরে থাকা সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। অন্য কিছু ঘটনায় সম্পর্ক গড়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ডেকে এনে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোজেস এর আগে কয়েকবার ধরা পড়লেও পালিয়ে যান অথবা বিতর্কিত পরিস্থিতিতে মুক্তি পান। গ্রেপ্তারের পর তার বাসস্থান থেকে আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে উদ্ধার করা আলামতের ধরন সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। তদন্তকারীরা ওই অঞ্চলের অমীমাংসিত নিখোঁজ ও হত্যা মামলার নথিও খতিয়ে দেখছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত এসব কথিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত ও সংগৃহীত প্রমাণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। আরটিভি/এসআর
উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা করে মাংস খাওয়ায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বহুমুখী অংশীদারত্ব জোরদারের আলোচনা
চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়নে সহায়তা দেবে চীন
চীনা গুপ্তচর সন্দেহভাজন ঝাংয়ের লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে অভিযোগ অস্বীকার