গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমানের জানালা উড্ডয়নের পর ভেঙে গেলে ৬১ বছর বয়সী এক যাত্রী আংশিকভাবে বিমানের বাইরে ঝুলে পড়েন। তবে সিটবেল্ট, স্ত্রীর তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধি এবং সহযাত্রীদের সম্মিলিত চেষ্টায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শুক্রবার সকালে থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর কেবিনে বিকট শব্দ হয়। এরপর দ্রুত কেবিনের চাপ কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানের একটি জানালা ভেঙে যাওয়ার পর তীব্র বায়ুচাপের কারণে জানালার পাশের আসনে বসা সার্বিয়ান ওই যাত্রীর মাথা ও কাঁধ বিমানের বাইরে চলে যায়। তবে সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় তার শরীরের বাকি অংশ আসনের সঙ্গে আটকে ছিল।
এ সময় যাত্রীর স্ত্রী তার দুই পা শক্ত করে ধরে রাখেন। কয়েক মিনিট পর বিমানে থাকা কয়েকজন যাত্রী, যার মধ্যে চিকিৎসকরাও ছিলেন, এগিয়ে এসে তাকে কেবিনের ভেতরে টেনে আনতে সক্ষম হন।
ঘটনায় ওই যাত্রীর ঘাড়ে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। তিনি কয়েক দফা জ্ঞান হারিয়েছিলেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জরুরি পরিস্থিতিতে পাইলট বিমানটি ঘুরিয়ে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। অবতরণের পর আহত যাত্রীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বিকল্প একটি উড়োজাহাজে অন্য যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানো হয়।
রায়ানএয়ার জানিয়েছে, উড্ডয়নের সময় একটি যাত্রীর পাশের জানালার ত্রুটির কারণে বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে ফিরে আসে। তবে জানালাটি কী কারণে ভেঙে যায়, তা এখনও তদন্তাধীন। গ্রিক গণমাধ্যমের দাবি, ইঞ্জিন থেকে ছিটকে আসা কোনো ধাতব অংশ জানালায় আঘাত করতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: ইয়াহু
আরটিভি/এমএইচজে



