যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সুবিধা দেয়, এমন সব বিকল্প জ্বালানি রপ্তানি করিডর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির এই হুমকির আগে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপ করে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতের বরাতে বার্তা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদন বলা হয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই পাবে, না হয় কেউই পাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুথি মিলিশিয়াদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার একটি পরোক্ষ ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি এমনটি ঘটে, তবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথ একই সঙ্গে চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। সংকীর্ণ এই বাব–এল–মান্দেব প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট।
এদিকে ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, সোমবার (১৩ জুলাই) হুথিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও একই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত আছেন। তার দাবি, এটি করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক লাফে ২০০ ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
মুলত সোমবার হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এনে দেশটির অভ্যন্তরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও ইরান–সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে গত চার বছর ধরে চলা অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যায়।
প্রসঙ্গত, হুথিরা এর আগেই প্রমাণ করেছেন যে বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার সামরিক সক্ষমতা তাদের আছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও পশ্চিমা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা ‘দুর্বল করতে’ মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন দফায় দেশটিতে হামলা শুরু করার মাত্র এক দিন পরই আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই নতুন হুমকি এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা চালিয়েছে, যার ফলে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় টানা সাত ঘণ্টা ধরে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে।
এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই খোলা হবে না। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উপযুক্ত জবাবে তারা ইতিমধ্যেই বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হতো।
আরটিভি/এআর




