ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) ১ হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই জমি হস্তান্তর করা হলো। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আমরা দ্রুত সম্পন্ন করেছি। আজ পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া জেলাভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী, সীমান্ত বেড়া নির্মাণের জন্য সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলায়। এই জেলায় ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে ৩৩৭ একর জমি, যা মোট হস্তান্তরিত জমির প্রায় ৩৩ শতাংশ। এর পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা; যেখানে ৪২ দশমিক ৭ কিলোমিটারের জন্য ২৪১ দশমিক ০৩ একর জমি দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় থাকা অন্যান্য জেলার মধ্যে কোচবিহারে ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর, মালদহে ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর, নদীয়ায় ৯৫ দশমিক ১১ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৬ দশমিক ৪১ একর, দার্জিলিংয়ে ৪ দশমিক ৩১ একর, উত্তর দিনাজপুরে ৬ দশমিক ৬১ একর এবং জলপাইগুড়িতে ২ দশমিক ১৭ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করতে এই প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছি।’
এর আগে ২০১৫ সালে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর হয়, সে সময় ১০ হাজার একরের কিছু বেশি জমি বাংলাদেশকে ছেড়ে দেয় ভারত। তখন তা নিয়েও পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নানা প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল পরিমাণ কৌশলগত জমি হস্তান্তর করা হলেও এখন পর্যন্ত রাজ্যের নাগরিক সমাজ বা কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো আপত্তি কিংবা প্রশ্ন তোলা হয়নি।
আরটিভি/এআর




