পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সারথি ও সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র এবার দলনেত্রীর হাত ছাড়লেন। কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাবেক অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সাবেক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পর কামারহাটির এই প্রভাবশালী বিধায়কের দলত্যাগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন তিনি।
এদিন সকালে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সরাসরি রাজ্য বিধানসভায় পৌঁছান মদন মিত্র। সেখানে গিয়ে তিনি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এর মাধ্যমে মদন মিত্র সরাসরি দলটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী তথা ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে নিজের নাম লেখালেন।
দলত্যাগের ঘোষণা দিয়ে মদন মিত্র সাংবাদিকদের বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলছি, আজ এই মুহূর্ত থেকে তার তৃণমূলের ন্যাশনাল কমিটির চিফ হুইপ ও ওয়ার্কিং কমিটির পদসহ সব দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলাম। তৃণমূলেই ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম; শুধু এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো সুখের পালঙ্ক ছিল, এই ঘরে হয়তো খাটিয়া রয়েছে। কিন্তু আমি খাটিয়াকেই বেছে নিলাম।
মদন মিত্রকে পাশে বসিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের সামগ্রিক লড়াই মূলত একক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। মদন মিত্রের মতো একজন বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ নেতা আমাদের শিবিরে যুক্ত হওয়ায় আমাদের লড়াই আরও শক্তিশালী হলো।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলের মতে, সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূকে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তলব করার পর থেকেই মমতার সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়ছিল। আইনি ও রাজনৈতিক চাপ সামলাতেই শেষ পর্যন্ত মমতার দীর্ঘদিনের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলেন বলে মনে করা হচ্ছে। একের পর এক শীর্ষ নেতার দলত্যাগে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরটিভি/এআর



