যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলারের বন্ড বা আর্থিক জামানত বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিবাসীরা যাতে আর্থিক দিক থেকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হন এবং সমাজ বা রাষ্ট্রের ওপর বোঝা না হয়ে আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে আমরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা এবং বিদেশিদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনের কারণে সরকারি তহবিলের ওপর যাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের (আইএনএ) একটি দীর্ঘদিনের আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে এই বন্ড চালুর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। যেসব ভিসা আবেদনকারীর ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই এই আর্থিক জামানত প্রযোজ্য হতে পারে।
অবৈধ অভিবাসন দমনে ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গণহারে বহিষ্কারসহ একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুবিধা বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ সীমিত করতেও নতুন আইনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বৈধ উপায়ে গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছয় অঙ্কের (১ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) এই বিশাল অংকের বন্ড আরোপের বিষয়টি সামনে এল।
এর আগেও অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি (H-1B) ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি চালুর চেষ্টা করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত সেই সময় সরকারের ওই উদ্যোগ বাতিল করে রায় দেন যে প্রশাসন তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং অভিবাসন নীতি বা কর নির্ধারণের আসল ক্ষমতা একমাত্র মার্কিন কংগ্রেসের।
বর্তমানে গ্রিন কার্ডের আবেদন ফি আবেদনকারীর ক্যাটাগরি এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নাকি বাইরে থেকে আবেদন করছেন—তার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে আবেদনকারীদের সাধারণত ‘ফর্ম আই-৪৮৫’–এর জন্য ১,৪৪০ ডলার ফি দিতে হয়। এ ছাড়া কাজের অনুমতি বা ট্রাভেল ডকুমেন্টের জন্য আলাদা ফি লাগে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যারা আবেদন করেন, তাদের ডিএস-২৬০ ফর্মের ফি হিসেবে ৩২৫ ডলার এবং ভিসা অনুমোদনের পর ইমিগ্রেশন ফি হিসেবে আরও ২৩৫ ডলার দিতে হয়। বিদ্যমান এই সাধারণ ফিগুলোর তুলনায় প্রস্তাবিত ১ লাখ ডলারের বন্ড নীতিটি কার্যকর হলে তা মার্কিন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় একটি নজিরবিহীন ও বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, আবেদনকারী নিজে অথবা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা এই জামানতের অর্থ সরকারের কাছে জমা রাখবেন। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ আবার ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে গত আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে আফ্রিকার মালাউই ও জাম্বিয়ার কিছু ভিসাধারীর ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড চালু করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করলে বা পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয়সহ অন্য কোনো অভিবাসন সুবিধার জন্য আবেদন করলে ওই অর্থ বাজেয়াপ্ত করার নিয়ম রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার আরও অন্তত ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এর ফলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ভিসাধারীই নির্ধারিত মেয়াদের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করেননি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এমন কঠোর ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থার কারণে সার্বিকভাবে দেশটিতে ভিসা ইস্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
আরটিভি/এআর




