সাপের কামড় নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া আমেরিকান ব্যক্তির ঘাড়ে ১৫ কোটি টাকার বিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,  আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০১:৩০ পিএম


সাপের কামড় নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া আমেরিকান ব্যক্তির ঘাড়ে ১৫ কোটি টাকার বিল
চিকিৎসাধীন ক্রিস হাওয়ার্থ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিষধর র‍্যাটলস্নেকের কামড়ে আক্রান্ত এক ব্যক্তি অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন। তবে হাসপাতাল থেকে পাওয়া আকাশচুম্বী এক মেডিকেল বিল দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন তিনি। 

ক্রিস হাওয়ার্থ নামের ওই ব্যক্তিকে সাপের বিষ থেকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের মোট ৫৪ ডোজ অ্যান্টি-ভেনম দিতে হয়েছিল, যার ফলে তার মোট চিকিৎসার খরচ দাঁড়িয়েছে ১.৩ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ লাখ মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ কোটি টাকারও বেশি)। সাপের বিষের জটিল প্রতিক্রিয়ার কারণে একটি হাসপাতালের সম্পূর্ণ অ্যান্টি-ভেনম শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাকে হেলিকপ্টারে করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়।

ঘটনাটির সূত্রপাত হয় যখন ক্রিস আইডাহো থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ওরোভিলে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। একটি বৃষ্টির দিনে মায়ের বাগানে হাঁটার সময় তিনি অসাবধানতাবশত একটি বিষধর র‍্যাটলস্নেকের ওপর পা দিয়ে ফেলেন। প্রথমে সাপের কামড়কে গাছের কাঁটার আঘাত ভেবে ভুল করলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, জিহ্বা অবশ হয়ে যায় এবং লিম্ফ নোড ফুলে ওঠে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তার স্ত্রী জেনি হাওয়ার্থ তাকে দ্রুত ওরোবিলের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ৩৬টি অ্যান্টি-ভেনমের ভায়াল দেওয়ার পর হাসপাতালের সম্পূর্ণ স্টক শেষ হয়ে যায়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে তাকে হেলিকপ্টারে করে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তার জীবন বাঁচাতে আরও ১৮টি ভায়াল অ্যান্টি-ভেনম দিতে হয়।

ক্রিসের স্ত্রী জেনি একটি ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মে জানান, প্রতিটি অ্যান্টি-ভেনম ভায়ালের দাম ছিল ১৩ হাজার ডলার এবং স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে প্রতি রাতের খরচ ছিল ৬১ হাজার ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অ্যান্টি-ভেনম, রক্ত সঞ্চালন, সিটি স্ক্যান এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণেই বিলটি এত বিশাল অঙ্কে পৌঁছায়।

জেনি জানান, তাদের ইন্স্যুরেন্স বা স্বাস্থ্যবিমা এই বিলের একটি অংশ বহন করবে, এবং এই ১৩ লাখ ডলারের হিসাবটি বিমার টাকা বাদ দেওয়ার আগের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্রিসের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছিল এবং তার শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার জটিল রোগ 'ডিআইসি' (Disseminated Intravascular Coagulation) দেখা দিয়েছিল, যা পুরো পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত ভীতিকর।

আরও পড়ুন

২৬ মে থেকে ক্রিস কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছেন না এবং তার জমানো সব ছুটিও শেষ হয়ে গেছে। গত সাত সপ্তাহ ধরে পরিবারটিতে কোনো বেতন না আসায় এবং সামনে এত বড় মেডিকেল বিল থাকায়, তারা চরম মানসিক ও আর্থিক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে ক্রিস প্রায় ৮০ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো পা ফোলা এবং তীব্র ক্লান্তির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগছেন।

এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায়, তাদের পরিবারকে সাহায্য করতে স্থানীয় মানুষ এগিয়ে এসেছেন এবং একটি তহবিল গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ সংগৃহীত হয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission