ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

আড়াই বছরে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ১৪০ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ২০২৪ সালে কঠোর অভিবাসন অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রে (ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার) অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আটককেন্দ্রগুলোর অতিরিক্ত ভিড়, চিকিৎসায় অবহেলা ও অমানবিক পরিবেশকে এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি এ দাবি জানায়।

ফোর্টিফাই রাইটস জানায়, পার্লামেন্টে দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রে মোট ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সম্মিলিতভাবে ১০৯ জন আটক অবস্থায় মারা যান। এছাড়া গত ১৪ জুলাই পার্লামেন্টে দেওয়া আরেকটি তথ্যে জানানো হয়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালে অভিযান শুরুর পর থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ জনে।

ফোর্টিফাই রাইটসের মতে, ২০২৪ সালে সরকার ব্যাপক অভিবাসন অভিযান শুরু করার পর অনথিভুক্ত অভিবাসী ও শরণার্থীদের গ্রেফতার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে গ্রেফতারের সংখ্যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে ২২ হাজার ৪৫ জন আটক রয়েছেন, যেখানে সরকারি ঘোষিত ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫৩০ জন। ফলে কেন্দ্রগুলো অতিরিক্ত ভিড়ে মানবিক সংকটে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সেপসিস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো রোগের কথা উল্লেখ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফোর্টিফাই রাইটসের ভাষ্য, এসব রোগ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দূষিত পানি, অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন, অতিরিক্ত ভিড় এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে সৃষ্টি হতে পারে বা আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে এসব মৃত্যুর অনেকগুলোই প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।

২০২৫ সাল থেকে ফোর্টিফাই রাইটস মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েক ডজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অসুস্থ হলেও অনেক সময় চিকিৎসা দেওয়া হতো না, চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এমনকি চিকিৎসা চাইলে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে।

বাংলাদেশি এক সাবেক আটক ব্যক্তি, যার ছদ্মনাম হোসেন, বলেন, অসুস্থতার কথা জানালে অনেককে মারধর করা হতো। ফলে অধিকাংশ বন্দি অসুস্থ হলেও তা জানাতে ভয় পেতেন। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুপথযাত্রী না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়া হতো না।

আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থী জানান, জ্বর, পেটব্যথা কিংবা মাথাব্যথা— যে সমস্যাই হোক না কেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই শুধু একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দেওয়া হতো।

মিয়ানমারের এক শরণার্থী বলেন, দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেও দাঁত পরীক্ষা না করে কেবল প্যারাসিটামল দিয়ে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

মিয়ানমারের আরেক সাবেক আটক ব্যক্তি জানান, তিনি আটক অবস্থায় একজন থাই ও একজন ইন্দোনেশীয় বন্দির মৃত্যু দেখেছেন।

তার ভাষ্য, এক থাই বন্দি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রথমে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরে অন্য বন্দিদের চাপের মুখে তাকে একটি প্যারাসিটামল দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন জানা যায়, তিনি মারা গেছেন।

আরও পড়ুন

ফোর্টিফাই রাইটস বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী আটক প্রত্যেক ব্যক্তির পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বৈষম্য ছাড়াই সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, জাতিসংঘের 'নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস' অনুযায়ী বন্দিদের সাধারণ নাগরিকদের সমমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং এ সেবা বিনামূল্যে দিতে হবে।

ফোর্টিফাই রাইটসের জ্যেষ্ঠ পরিচালক পিটার বাউকার্ট বলেন, অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর ভয়াবহ পরিবেশ অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর জন্য দায়ী। নিজেদের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের মানবিকভাবে রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া মালয়েশিয়ার আইনি দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো মৃত্যু না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অতীতের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এশিয়ার ৪ দেশের মধ্যে ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর
পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক এবং ইন্দোনেশিয়া প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে বুধবার (২১ অক্টোবর) একটি বহুপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বলে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। খবর পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের।
এশিয়ার ৪ দেশের মধ্যে ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর
ভিসা নিয়ে প্রবাসীদের সুখবর দিল ইরাক
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের জন্য এসেছে বড় ধরনের এক সুখবর। সে দেশে যেসব বিদেশি নাগরিকের ভিসা বা রেসিডেন্সি পারমিটের (আকামা) মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের বকেয়া জরিমানার ৭৫ শতাংশ মওকুফ বা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুর্দিস্তান সরকার। বুধবার ( ২১ অক্টোবর)  কুর্দিস্তান অঞ্চল সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের বার্তা অনুযায়ী, কুর্দিস্তান অঞ্চলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেবার আহমেদের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেশ নম্বর ৩২৫৫৭-এর আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী বিদেশি নাগরিকদের বিলম্বজনিত জরিমানার ৭৫ শতাংশ মওকুফ করা হবে। অর্থাৎ, তাদের মোট জরিমানার মাত্র ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি নাগরিক বৈধ ভিসা নিয়ে কুর্দিস্তান অঞ্চলে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু কোনো কারণে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারেননি কিংবা ভিসাকে রেসিডেন্সি পারমিটে রূপান্তর করতে পারেননি, তারা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। একইভাবে যাদের রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, তারাও নির্ধারিত শর্তে এ ছাড় পাবেন। এ ক্ষেত্রে ২০১১ সালের নির্দেশনা নম্বর ১-এ উল্লেখিত বিলম্বজনিত জরিমানার ওপর ছাড় কার্যকর হবে। জরিমানায় ছাড় পেতে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে কুর্দিস্তান অঞ্চলের যেকোনো একটি রেসিডেন্সি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা এ সুবিধা নিতে পারবেন। কুর্দিস্তান অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ সিদ্ধান্ত স্বস্তির সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যাদের ভিসা বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছিল, তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জরিমানার ৭৫ শতাংশ ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এ সুবিধা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগাযোগ করে প্রযোজ্য নিয়ম ও শর্ত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
ভিসা নিয়ে প্রবাসীদের সুখবর দিল ইরাক
বিয়েতে অস্বীকৃতি প্রেমিকের, দুই সন্তানের গলা কেটে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা 
ভারতের রাজস্থানে প্রেমিক আগের সংসারের সন্তানদের মেনে নিতে রাজি না হওয়ার জেরে প্রথম স্বামীর ঘরে জন্ম নেওয়া ১৩ বছর বয়সী যমজ দুই ছেলেকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
বিয়েতে অস্বীকৃতি প্রেমিকের, দুই সন্তানের গলা কেটে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা 
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশিদের ধরতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব সংসদে
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে  বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য দাতুক ড. রাদজি জিদিন। এ
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশিদের ধরতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব সংসদে
মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মীদের ইসরায়েলের তৈরি অ্যাপ ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
মালয়েশিয়া সরকার ইসরায়েলে তৈরি নেভিগেশন অ্যাপ ওয়েজ ব্যবহারে সরকারি কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মীদের ইসরায়েলের তৈরি অ্যাপ ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
আরও পড়ুন
বিয়ের ৬ দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩ অভিবাসীর করুণ মৃত্যু, পাচারকারীর ৩০ বছরের কারাদণ্ড 
ফ্লোরিডায় ৭৭ বছর বয়সী বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিন মেয়ের সঙ্গে কথা হয় বাবার