বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ততম মহানগর নিউইয়র্ক সিটির পার্ক, বনাঞ্চল, জলাভূমি ও অন্যান্য সবুজ এলাকাগুলো এখন একাধিক প্রজাতির বাদুড়ের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। নগরের সুউচ্চ দালানকোঠা আর কংক্রিটের চাদরে ঢাকা পরিবেশের মধ্যেও ডানাওয়ালা এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর দলবদ্ধ উপস্থিতি অনেক গবেষকের কাছেই বেশ অপ্রত্যাশিত ও বিস্ময়কর বলে বিবেচিত হচ্ছে
গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন পার্ক ও সবুজ এলাকায় বাদুড় নিয়মিত খাদ্য সংগ্রহ, সামাজিক চলাচল এবং কিছু ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার জন্য এসব প্রাকৃতিক স্থান বেছে নিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় শহরের বাতিগুলোর চারপাশে কীটপতঙ্গের ব্যাপক আধিক্য এবং ঘন গাছপালার উপস্থিতি এদের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত সহায়ক ও আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে।
নিউইয়র্ক সিটির বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মেগাসিটিটিতে অন্তত কয়েকটি দেশীয় বাদুড় প্রজাতির নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে। এর মধ্যে বড় বাদামী বাদুড়, পূর্বাঞ্চলীয় লাল বাদুড়, হোরি বাদুড় ও সিলভার-হেয়ার্ড বাদুড় অন্যতম। নিশাচর এই প্রাণীর দল মশাসহ বিভিন্ন উড়ন্ত ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে নগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, মেগাসিটির এই সবুজ এলাকাগুলো শুধু মানুষের বিনোদন কিংবা বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার জন্য নয়, বরং বন্যপ্রাণীর জন্যও এক অনন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে। এমনকি পূর্বের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিউইয়র্কের আধুনিক সবুজ ছাদ এলাকাগুলোতেও সাধারণ ছাদের তুলনায় অনেক বেশি বাদুড়ের আনাগোনা ও কার্যকলাপ রেকর্ড করা হয়েছে। এই চিত্র নগর পরিকল্পনায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বকে আরও বেশি জোরালো ও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র নগরায়ণের মধ্যেও যদি পর্যাপ্ত গাছপালা, পার্ক ও প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তবে বাদুড়সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর টিকে থাকা অনেক সহজ হবে। একই সঙ্গে এসব বন্য প্রাণী প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে নিখরচায় সহায়তা করে পরিবেশগত ভারসাম্য ও সুস্থ নগরজীবন বজায় রাখতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/এআর




