৫০ বারের চেষ্টায়ও সরকারি চাকরি পেতে ব্যর্থ স্বর্ণপদকজয়ী ছাত্রের, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ০৩:১৪ পিএম


৫০ বারের চেষ্টায়ও সরকারি চাকরি পেতে ব্যর্থ স্বর্ণপদকজয়ী ছাত্রের, অতঃপর...
২০২৪ সালে উত্তর প্রদেশের গভর্নর আনন্দীবেন প্যাটেলের হাত থেকে স্বর্ণপদক ও স্বীকৃতি গ্রহণ করছেন আনন্দ কুমার। ছবি: সংগৃহীত।

বি.টেক বা ব্যাচেলর অব টেকনোলজিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে পেয়েছিলেন স্বর্ণপদক। কিন্তু এরপর অন্তত ৫০ বার চেষ্টা করেও একটি সরকারি চাকরি মেলাতে পারেননি। এই চরম হতাশা থেকে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক মেধাবী তরুণ। ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৯ জুলাই) টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কানপুরের গোবিন্দ নগরের গুজাইনি এলাকায় নিজেদের তিনতলা বাড়ির একটি ঘর থেকে আনন্দের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় আনন্দের পরিবার এক আত্মীয়ের বিয়ের কথা পাকা করতে বিহারে গিয়েছিল। বাড়ির গৃহকর্মী এসে আনন্দের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে আনন্দের মরদেহ এবং তার হাতে লেখা পাঁচ লাইনের একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন

উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, ‘দুঃখিত বাবা, আমি প্রায় ৫০ বার সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’ কানপুর পুলিশ আনন্দের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত আনন্দের বাবা রাজকুমার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। তাদের মূল বাড়ি বিহারের বক্সার এলাকায়। তিনি জানান, আনন্দ ২০২৪ সালে পিএসআইটি নামের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। পুরো উত্তর প্রদেশ রাজ্যে তিনি তৃতীয় হয়েছিলেন। গত বছরের ১৩ আগস্ট কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উত্তর প্রদেশের গভর্নর আনন্দীবেন প্যাটেলের হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছিলেন আনন্দ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ ভারতের পাওয়ার গ্রিডে শিক্ষানবিশি বা ইন্টার্নশিপ করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। আনন্দের বাবা বলেন, ‘ও রেল, এসএসসি, ব্যাংক ও শিক্ষা দপ্তরের একের পর এক নিয়োগ পরীক্ষায় বসেছিল। কিন্তু কোথাও চাকরি মেলেনি। এই কারণে গত কয়েক মাস ধরে ও প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিল।’ 

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission