ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনলাইনভিত্তিক জেন-জি সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ২০ বছর বয়সী এক তরুণী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২০ জুলাই) জনতার দল নামে একটি রাজনৈতিক দলের ডাকা সংসদ চলো কর্মসূচিতে পুলিশের অভিযানের সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি ব্যারিকেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ওই তরুণী গুরুতর আহত হন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের লাঠি চার্জে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগাতে এ ঘটনা ঘটে।
সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ৯০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৯ জনকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এছাড়া ২০টির বেশি পুলিশের যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেন।
এদিকে আন্দোলনকারীদের দুই প্রতিনিধি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে।
তবে সংঘর্ষের পরও মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে আবারও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ আগের দিন মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দিলেও দলটির আহ্বানে তারা আবার সেখানে অবস্থান নেন। পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে মিছিল করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। একই সঙ্গে আটক ও আহত আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের (২০ জুলাই) সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সহিংসতা, ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে আরও দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সংসদীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আরটিভি/জেএমএ



