পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারী কর্মকর্তারা দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় ইউএনআরডব্লিউএ’র বেশ কয়েকটি ভবন ভেঙে ফেলে। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি নেতারা। খবর আল জাজিরার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার নিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। এরপর স্থায়ী ও অস্থায়ী ভবনগুলোতে ধ্বংস ও লুটপাট চালায় তারা। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এ দিনটিকে।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউএনআরডব্লিউএ’র কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, জাতিসংঘের বিরুদ্ধে এমন হামলা আগে কখনো দেখা যায়নি এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের ওপর সরাসরি আঘাত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আজ ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে যা হয়েছে, এই পরিণতি আগামীকাল পৃথিবীর অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনেরও হতে পারে।’
কঠোর ভাষায় এই ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একইসঙ্গে ইসরায়েলকে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইউএনআরডব্লিউএ’র মুখপাত্র জনাথান ফ্লোয়ার বলেছেন, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের বের করে দেয়। তারপর বুলডোজার দিয়ে ভবনগুলো ভাঙা শুরু করে তারা। সংস্থাটি একে ‘অসম্প্রদায়িক মানবিক কাজের ওপর এক অনিবার্য ও বেআইনি আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী ইউএনআরডব্লিউএ’র কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে এবং স্থাপনাটিকে নিজেদের বলে বিবেচনা করে। ইসরায়েলের দাবি, ইউএনআরডব্লিউএ’র কিছু কর্মী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। তবে, এই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছে জাতিসংঘ।
ইসরায়েলের এ কর্মকাণ্ডকে ‘স্পষ্ট বর্ধিত উত্তেজনা’ বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর সহায়তা সরবরাহে বড় ধাক্কা দেবে এবং বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা দুর্বল করবে।
আরটিভি/এসএইচএম





