ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

এবার জাতিসংঘ সংস্থার সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিলো ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারী কর্মকর্তারা দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় ইউএনআরডব্লিউএ’র বেশ কয়েকটি ভবন ভেঙে ফেলে। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি নেতারা। খবর আল জাজিরার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার নিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। এরপর স্থায়ী ও অস্থায়ী ভবনগুলোতে ধ্বংস ও লুটপাট চালায় তারা। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এ দিনটিকে।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউএনআরডব্লিউএ’র কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, জাতিসংঘের বিরুদ্ধে এমন হামলা আগে কখনো দেখা যায়নি এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের ওপর সরাসরি আঘাত।

আরও পড়ুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আজ ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে যা হয়েছে, এই পরিণতি আগামীকাল পৃথিবীর অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনেরও হতে পারে।’

কঠোর ভাষায় এই ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একইসঙ্গে ইসরায়েলকে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইউএনআরডব্লিউএ’র মুখপাত্র জনাথান ফ্লোয়ার বলেছেন, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের বের করে দেয়। তারপর বুলডোজার দিয়ে ভবনগুলো ভাঙা শুরু করে তারা। সংস্থাটি একে ‘অসম্প্রদায়িক মানবিক কাজের ওপর এক অনিবার্য ও বেআইনি আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী ইউএনআরডব্লিউএ’র কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে এবং স্থাপনাটিকে নিজেদের বলে বিবেচনা করে। ইসরায়েলের দাবি, ইউএনআরডব্লিউএ’র কিছু কর্মী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। তবে, এই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছে জাতিসংঘ।

ইসরায়েলের এ কর্মকাণ্ডকে ‘স্পষ্ট বর্ধিত উত্তেজনা’ বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর সহায়তা সরবরাহে বড় ধাক্কা দেবে এবং বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা দুর্বল করবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদি আরবে হঠাৎ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি, ঘটনা কী
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন কুয়াশা এবং মাঝারি থেকে ভারী বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এ আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)। রোববার (১ নভেম্বর) এক সতর্কবার্তায় এনসিএম জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিছু অংশে দুটি রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অন্যান্য অংশে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার ক্ষেত্রে রেড অ্যালাটের মানে হল গুরুতর আবহাওয়াজনিত বিপদের সতর্কতা, আর অরেঞ্জ অ্যালার্ট মানে সম্ভাব্য বিপজ্জনক আবহাওয়ার আগাম সতর্কতা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নর্দান বর্ডার, হাইল, মক্কা, আসির, আল-বাহা ও জাজান অঞ্চলের কিছু অংশে মাঝারি বৃষ্টিপাতের জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, জাজান, আসির, আল-বাহা, মক্কা, মদিনা, হাইল এবং নর্দার্ন বর্ডারস অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রঝড় হতে পারে। একইসঙ্গে শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর ফলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। এসব অঞ্চলের পাশাপাশি রিয়াদ ও আল-কাসিমের কিছু এলাকায় ধুলো ও বালুঝড় সৃষ্টিকারী প্রবল বায়ু ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে। আরটিভি/এসআর
সৌদি আরবে হঠাৎ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি, ঘটনা কী
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতে পরিণতি হবে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক, বলছে মিশর
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বাজতে শুরু করেছে যুদ্ধের দামামা। তবে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক হবে বলে সতর্ক করেছে মিশর।   
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতে পরিণতি হবে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক, বলছে মিশর
হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান নেতানিয়াহু, দাবি বিরোধীদের
ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে কাতার ও তুরস্কের মতো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার এই দাবিকে পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার চেষ্টা আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী শিবিরের গাদি আইজেনকট।  এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরব দলগুলোর প্রাপ্ত তহবিলের উৎস খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেইতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলে উড়িয়ে দিয়েছে।  দোহার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে এটা স্পষ্ট-নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী জোট, কোনো পক্ষ পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।  আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সব সমীকরণ পাল্টে গেছে। ১২০ আসনের নেসেটে দুটি আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্ট এবং রাআম রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। এমন ফলাফলে আরব দল দুটি এখন সরকার গঠনের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে গুরুতর সন্দেহের তদন্ত করতে শিন বেইতকে অনুরোধ জানান কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) প্রধান। এরপর বৃহস্পতিবার লিকুদ পার্টি অভিযোগ তোলে যে আরব দলগুলোকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে। দুটি আরব দলই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবদের জোট জয়েন্ট লিস্ট এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা এই পুরো বিতর্ককে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বৈধতা নষ্ট করতে চাইছেন। যাতে আইজেনকট তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করতে না পারেন। কারণ, বর্তমানে আরবদের সমর্থনই বিরোধী জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পথ। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে একটি অভিযোগ আসে যে আরব এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কাতার তহবিল জুগিয়েছে। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে। নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ এই অভিযোগকে রাজনৈতিক ভূমিকম্প এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দেয়। তাদের দাবি-কট্টর ডানপন্থী সরকারকে হটাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শিন বেইত পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের এই তদন্ত বৈধভাবে ভোট দেওয়া পুরো আরব সম্প্রদায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে জানান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তদন্তের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর আইজেনকট জানান, ঠিক কী ঘটেছে বা আদৌ কিছু ঘটেছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে অবৈধ প্রমাণ করতে নেতানিয়াহু সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। জয়েন্ট লিস্টের শরিক দল বালাদের চেয়ারম্যান সামি আবু শেহাদেহ এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। পরাজিত পক্ষ বর্ণবাদী মিথ্যা অপবাদ তৈরি করছে এবং নির্বাচনের ফল উল্টে দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বলপ্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছে বলে দাবি তার। নেতানিয়াহু কয়েক দিন ধরে আরব ভোটার ও দলগুলোর ওপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে আসছেন। নির্বাচনের দিন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ডানপন্থীদের জন্য চরম জরুরি অবস্থা এবং এটি তাদের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। ডানপন্থী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টানতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আরব ভোটারদের ছবিও প্রকাশ করেন। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। তাদের অনেকে নিজেদের ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। বহুবছর ধরে অনেক আরব ভোটাররা ইসরায়েলের নির্বাচন বর্জন করে আসছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল-ভোট দিলে এমন একটি ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া হয়, যেখানে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু এবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই তারা বিপুলসংখ্যক ভোট দিয়েছেন। আরটিভি/এসআর  
হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান নেতানিয়াহু, দাবি বিরোধীদের
আরব পাঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন শিশু মায়ার
আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাঠ প্রতিযোগিতা ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’-এর দশম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মিসরের ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মায়ার ওসমান।
আরব পাঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন শিশু মায়ার
ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিতে মিত্রদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিতে মিত্রদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
আরও পড়ুন
‘ভারতীয়রা গোমূত্র চেটে খায়’ বলে কঠিন উপহাস ইসরায়েলির!
হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান নেতানিয়াহু, দাবি বিরোধীদের
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও ক্ষমতায় থাকার পথে নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের নির্বাচন: জয়ের পথে বিরোধীরা, ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে নেতানিয়াহুকে?