ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতে ‘শিশু বাজারের’ সন্ধান, ছেলে বিক্রি হয় ৮ লাখে আর মেয়ের দাম ৪ লাখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
এআই দিয়ে তৈরি ছবি

ভারতের দিল্লিতে বড় এক শিশু পাচারকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অসচ্ছল দম্পতিদের কাছ থেকে মাত্র চার-পাঁচ দিনের নবজাতকদের ‘সংগ্রহ’ করে রাজধানী শহরে সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করত চক্রটি। এভাবে রীতিমতো একটি ‘শিশু বাজার’ গড়ে তুলেছিল তারা।

আর সেই বাজারে অন্য দশটা পণ্যের মতো লিঙ্গভেদে শিশুদের দামও নির্ধারণ করে রেখেছিল তারা। একেকটা ছেলে শিশু সেখানে বিক্রি হতো ৬ থেকে ৮ লাখ রুপিতে। আর অন্যদিকে একেকটা মেয়ে শিশু বিক্রি হতো তিন থেকে চার লাখ রুপিতে।

সম্প্রতি শিশু পাচারকারী এমনই এক চক্রের বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য দিল্লির পাহাড়গঞ্জের এক বাসিন্দার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়। ওই বাসিন্দা লক্ষ্য করেন, নিয়মিতভাবে এক নারী এলাকায় ঢুকছেন এবং প্রতিবারই তার কোলে আলাদা আলাদা শিশু।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে এবং সত্যতা পেয়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। কয়েকদিন অনুসরণের পর নজরদারি বাড়ানো হয় ওই নারীর ওপর। তদন্তে জানা যায়, সত্যিই শিশু পাচারের সঙ্গে জড়িত জ্যোতি ওরফে কমলেশ নামে ওই নারী।

এরপর কমলেশের সঙ্গে একটি ক্রয়-চুক্তির অজুহাতে যোগাযোগ করে পুলিশ। একজন মহিলা পুলিশ অফিসার ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে শিশু কিনতে চান তার কাছে। বৈঠকের তারিখ ঠিক হয় এবং দামদর হয়। ‘টোকেন অ্যামাউন্ট’ হিসেবে ২০ হাজার রুপি ঠিক হয়। ৫ জুন কমলেশ ছদ্মবেশী পুলিশের কাছে এক নবজাতককে হস্তান্তর করার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন

পরে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হতবাক হয়ে যায় পুলিশ এবং আরও গভীরভাবে তদন্ত চালিয়ে একটি বহুরাজ্যীয় চক্রের সন্ধান পায় তারা। চক্রটি রাজস্থান ও গুজরাটের দরিদ্র দম্পতিদের কাছ থেকে শিশু কিনত বা চুরি করত এবং মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানায় সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে বিক্রি করত।

কমলেশকে নিরবচ্ছিন্ন জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার দুই সহযোগী শালু ও ললিতের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে প্রতিভা ও বিপিন নামে আরও দুজনের সন্ধান মেলে, যারা শিশু সংগ্রহ এবং বিক্রির চুক্তি করার কাজে জড়িত ছিল।

প্রতিভা ও বিপিনকে ধরা হয় যখন তারা শিশু সংগ্রহকারীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। পুলিশ তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ রুপি উদ্ধার করে। দুই সপ্তাহের নিরবচ্ছিন্ন জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ পাঁচটি এমন শিশু উদ্ধার করে, যাদের সবার বয়স এক মাসেরও কম।

গ্রেপ্তার আসামিদের কয়েকদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর পশ্চিম দিল্লির একটি হাসপাতালের সন্ধান পায় পুলিশ। রোহিনীর বেগমপুরে অবস্থিত হিরার মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল। তদন্তে দেখা যায়, এই হাসপাতালই পুরো চক্রের ‘নার্ভ সেন্টার’ এবং এর মালিক ডা. বিবেকী হলেন চক্রটির মূলহোতা।

সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং জানান, পাচারকারীরা শিশুদের ডা. বিবেকীর হাসপাতালে রাখত যতক্ষণ না তাদের সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডা. বিবেকী শিশুদের সংক্রান্ত নথিপত্র জাল করতে সাহায্য করতেন। জন্ম সনদ, ডেলিভারি ডকুমেন্ট, ইনভয়েস — সবকিছু তার হাসপাতালে জালিয়াতি করে তৈরি করা হতো, যাতে মনে হয় শিশুরা সেই হাসপাতালেই জন্মেছে।

পুলিশের তদন্তে দেখা যায়, একটি মেয়ে শিশুকে প্রায় এক লাখ টাকায় সংগ্রহ করে তিন থেকে চার লাখ টাকায় বিক্রি করা হতো। অন্যদিকে, একটি ছেলে শিশুকে প্রায় দুই লাখ টাকায় কিনে বিক্রি করা হতো ছয় থেকে আট লাখ টাকায়। আর এসব চুক্তি ডা. বিবেকীর হাসপাতালেই সম্পন্ন হতো। শিশু কিনতে আগ্রহী দম্পতি এবং পাচারকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন তিনি।

আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুজরাটের সাবরকান্থা থেকে সাবাভাই গামার ওরফে কালিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদয়পুরের বাসিন্দা গামার রাজস্থানের পালি এবং সাবরকান্থার অসচ্ছল দম্পতিদের কাছ থেকে নবজাতক ‘কিনে’ দিল্লির ডা. বিবেকীর হাসপাতালের মাধ্যমে সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে বিক্রি করতেন।

তদন্তে জানা গেছে, গামার ও তার চক্র গত এক বছরে অন্তত ৩০টি নবজাতক পাচার করেছে। এসব শিশু মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানার দম্পতিদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

পুলিশ হরিয়ানার পানিপথ থেকে সানি অরোরা ও রিতু অরোরা নামে এক দম্পতিকেও গ্রেপ্তার করেছে। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকেও এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা এই চক্রের কাছ থেকে শিশু কিনেছিলেন। পুলিশ বলছে, এই পরিবারগুলোকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হবে।

এমনকি পুলিশ এখন উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রকৃত বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে, যাতে বোঝা যায় তারা স্বেচ্ছায় শিশু বিক্রি করেছেন নাকি জোর করে তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে নাকি শিশুদের চুরি করা হয়েছে।

ডিসিপি সিং বলেন, যদি পরিবারগুলো স্বেচ্ছায় পাচারকারীদের কাছে শিশু বিক্রি করে থাকেন, তাহলে তাদেরকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সাধারণ অবস্থান হলো—ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখা। এ সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নেওয়াই ভারতের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য থাকলে তা জানানো হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মুখপাত্র আরো বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যেই সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ভারতের বহুপক্ষীয় বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’তে বাংলাদেশের সি-১৩০জে পরিবহন বিমান অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।  জবাবে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের মূল অবস্থান অপরিবর্তিত—নয়াদিল্লি একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
নিজের সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ার অপরাধে নিজের জন্মদাতা মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা করেছেন ২৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ।  মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী রাফায়েল স্যামুয়েল জানান, শিশুদের পৃথিবীতে নিয়ে আসা অনুচিত, কারণ পরবর্তীতে তাদের সারা জীবন ধরে বহু কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রাফায়েল স্যামুয়েল বিষয়টি অনুধাবন করেন যে জন্মের আগে কারও সম্মতি নেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তবে তার মতে, জন্ম নেওয়াটা তো আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। তাই যেহেতু তিনি বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় জন্ম নিতে চায়নি, সেহেতু আজীবন বেঁচে থাকার সব ধরনের খরচ মা-বাবারই বহন করা উচিত বলে যুক্তি দেন তিনি। সাধারণ কোনো পরিবারে এমন অযৌক্তিক দাবি সম্পর্কের ইতি ঘটাতে পারত, তবে পেশায় আইনজীবী রাফায়েলের মা-বাবার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিপরীত। তারা বিষয়টিকে হাস্যরসাত্মক ও ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।  রাফায়েলের মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েল এক বিবৃতিতে জানান, আমি আমার ছেলের সাহসের প্রশংসা করি যে মা-বাবা দুজনই আইনজীবী জেনেও সে আমাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছে। ও যদি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারে যে আমরা কীভাবে জন্মের আগে তার সম্মতি নিতে পারতাম, তবে আমি আমার ভুল স্বীকার করে নেব। স্যামুয়েলের এই ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা মূলত ‘অ্যান্টি-ন্যাটালিজম’ বা ‘জন্মবিরোধিতা’ দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দর্শনের অনুসারীদের মতে, মানবজীবন নানা দুঃখ-কষ্টে পূর্ণ; তাই মানুষের সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এতে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা সার্বিকভাবে এই গ্রহ এবং অন্যান্য পশুপাখির বেঁচে থাকার জন্য অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এক বছর আগে ‘নিহিলানন্দ’ (Nihilanand) নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিজের বেশ কিছু ডিজিটাল পোস্টার ছড়িয়ে দেন রাফায়েল। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি শিশুকে এই পৃথিবীতে আসতে বাধ্য করা এবং ক্যারিয়ার গড়তে চাপ দেওয়া কি অপহরণ বা দাসত্বের শামিল নয়? তবে মা-বাবার সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বলে জানান স্যামুয়েল। তিনি জানান, তার জীবন বেশ ভালোই কাটছে এবং তিনি বিষণ্ণ নন। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের অস্তিত্ব ছাড়া পৃথিবী আরও সুন্দর হতে পারত। যদিও কোনো বিচারক এই মামলা গ্রহণ করবেন না বলে তিনি জানেন, তবুও এই বিষয়ে বৈশ্বিক জনসচেতনতা ও আলোচনা তৈরির লক্ষ্যেই তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান বলে জানান। আরটিভি/এসআর  
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
ভারতে ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধার ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল বানর, অতঃপর...
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের কোপ্পাল জেলায় বাড়ির সামনে বানরের হামলায় ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ভারতে ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধার ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল বানর, অতঃপর...
ভারতে মুসলিমদের নিয়ে বিজেপি নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের রাজধানী ভোপালে এক জনসভায় বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ (হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করার কাল্পনিক অভিযোগ) অজুহাতে বলেছেন, মুসলিম যুবকদের একা একা গরবা অনুষ্ঠানে আসা উচিত নয়। তারা যদি আসতেই চায়, তবে নিজেদের পরিবারের বোন ও মেয়েদেরও সঙ্গে নিয়ে আসুক। আমাদের ছেলেরাও প্রস্তুত রয়েছে। বিধায়কের এই কথার পরেই সভাস্থলে থাকা তার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। বিজেপি বিধায়কের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে।  ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং এআইএমআইএম এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে চরম ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কুরুচিকর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও নেটিজেনরা বিধায়কের এই বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।  তাদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের সম্মানকে কার্যত সামাজিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক কুরুচিকর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর। ভোপাল সেন্ট্রালের কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রামেশ্বর শর্মার এই মন্তব্য অত্যন্ত নোংরা ও জঘন্য। আমি কেবল এটুকুই বলব—নিজের স্বভাব শুধরে নিন। মুখ থেকে এমন নোংরা কথা উগড়ানো বন্ধ করুন। প্রথমত, সাধারণ মুসলমানেরা গরবা অনুষ্ঠানে যায় না, গরবার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা চরম আপত্তিকর। অন্যদিকে, এআইএমআইএম-এর মধ্যপ্রদেশ সভাপতি মহসিন আলী খান তীব্র আক্রমণ চালিয়ে বিধায়ককে দেশের সংবিধান পড়ার পরামর্শ দেন।  তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরণের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশ ভাগ করার চক্রান্ত। রামেশ্বর শর্মা যদি মুসলমানদের নিজেদের বোন ও মেয়েদের গরবায় আনার কথা বলেন, তবে বিজেপির নিজস্ব মুসলিম নেতারা—যেমন শাহনেওয়াজ হোসেন বা সৈয়দ জাফর ইসলামরা কি তাদের নিজেদের বোন-মেয়েদের গরবা অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবেন? আরটিভি/এসআর
ভারতে মুসলিমদের নিয়ে বিজেপি নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
‘এটা কি আইফোন ১৮?’, জিজ্ঞেস করেই নারীর ফোন নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী
ভারতের গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টে ই-রিকশায় চেপে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় এক নারীর হাত থেকে ৩ দিন আগে কেনা আইফোন ছিনতাই করেছে দুই ছিনতাইকারী।  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে এনডিটিভি। ভুক্তভোগী শুভি ভান্ডারি ই-রিকশার ভাড়া অনলাইনে পরিশোধ করার জন্য ফোনটি হাতে বের করলে, হেলমেট পরা দুই বাইক আরোহী তার কাছে আসে। প্রথমে তারা রাস্তার দিক জানতে চায় এবং পরে ‘এটা কি নতুন আইফোন?’ বলে প্রশ্ন করে। শুভি ইতিবাচক উত্তর দেওয়ার পরপরই একজন তার হাত থেকে ফোনটি থাবা মেরে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। শুভির স্বামী সাকেত গুপ্ত জানান, আইফোন ১৮ প্রো মডেলের ফোনটি মাত্র ৩ দিন আগে কেনা হয়েছিল। ঘটনার পর পরিবারটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং সকালে প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশি টহল কম থাকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভুক্তভোগীর বাবার আবেদনের ভিত্তিতে একটি অনলাইন এফআইআর নথিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। বিসরাখ থানার ওসি রঞ্জিত সিং জানান, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আরটিভি/এসআর
‘এটা কি আইফোন ১৮?’, জিজ্ঞেস করেই নারীর ফোন নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী
আরও পড়ুন
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
ভারতে ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধার ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল বানর, অতঃপর...