হাসপাতালের অবহেলায় যেভাবে এইচআইভি আক্রান্ত হলো কয়েকশ শিশু

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১৪ পিএম


হাসপাতালের অবহেলায় যেভাবে এইচআইভি আক্রান্ত হলো কয়েকশ শিশু
ছবি: সংগৃহীত

এইচআইভি পজিটিভ নিয়ে মৃত্যু হয় মোহাম্মদ আমিনের। আট বছর বয়সী আমিনের পর তার দশ বছর বয়সী বোন আসমার শরীরে এই মরণব্যাধি ধরা পড়ে। শিশু দুটির পরিবারের দাবি, একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সময় পুরনো ও দূষিত সিরিঞ্জ ব্যবহারের কারণেই তারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়। খবর বিবিসির। 

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের তউনসা শহরে এ ঘটনাগুলো ঘটেছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে নামে বিবিসি। তারা ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই অনুসন্ধান পরিচালনা করে। এরপর সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে মোট ৩৩১ জন এইচআইভি পজিটিভ শিশুর তথ্য পাওয়া গেছে।  

আরও পড়ুন

প্রতিবেদন মতে, ২০২৪ সালের শেষে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক তউনসা সরকারি হাসপাতালের সাথে এই সংক্রমণের যোগসূত্র পান। তদন্তের পর কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটির মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্টকে বরখাস্ত করে। কিন্তু এরপরও ওই হাসপাতালে একইভাবে সিরিঞ্জ ও সুঁই ব্যবহার হয়েছে।

বিবিসি বলছে, ওই হাসপাতালটিতে ২০২৫ সালে ৩২ ঘণ্টার গোপন ভিডিও ধারণ করা হয়। এ সময় অন্তত ১০ বার দেখা গেছে যে, একই শিশি থেকে ওষুধ নেয়ার সময় একই সিরিঞ্জ ও সুঁই ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত চারবার একই শিশি থেকে ওষুধ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন শিশুকে ইনজেকশন দেয়া হয়।  

মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. আলতাফ আহমেদ এই ভিডিও দেখে বলেন, সুঁই পরিবর্তন করলেও সিরিঞ্জের পেছনের অংশে ভাইরাস থেকে যায়, যা পরে অন্য রোগীর শরীরে সংক্রমণের জন্য যথেষ্ট। 
 
বিবিসি আরও জানিয়েছে, হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সদেরও গ্লাভস ছাড়াই ইনজেকশন দিতে ও চিকিৎসার বর্জ্য খালি হাতে নাড়াচাড়া করতে দেখা গেছে। তবে হাসপাতালটির বর্তমান সুপারিনটেনডেন্ট ড. কাসিম বুজদার এই ভিডিও ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছেন।
 
পাঞ্জাব এইডস স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের তথ্য বলছে, তউনসা শহরের ৩৩১টি সংক্রমণের অর্ধেকেরও বেশি ‘দূষিত সুঁই’ ব্যবহারের কারণে হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাত্র চারজন মা এইচআইভি পজিটিভ ছিলেন। ফলে এই সংক্রমণকে জন্মগত বলার সুযোগ নেই।
 
তউনসার মতো একই চিত্র দেখা গেছে সিন্ধু প্রদেশের রাতোদেরোতেও। সেখানে ২০২১ সাল নাগাদ এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দেড় হাজারে পৌঁছায়। সম্প্রতি করাচির একটি সরকারি হাসপাতালেও একই কারণে ৮৪ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তানের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জামের স্বল্পতাকে এই সংকটের অন্যতম কারণ। আগা খান বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অধ্যাপক ড. ফাতিমা মীর বলেন, যারা ইনজেকশন দিচ্ছেন, তাদের সতর্ক হতে হবে। তারাই রোগ ছড়ানোর মাধ্যম হয়ে উঠছেন। 
  
আরটিভি/এমআই 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission