কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প, বিপদে হাত ছেড়ে দিচ্ছে বন্ধুরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৪১ পিএম


কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প, বিপদে হাত ছেড়ে দিচ্ছে বন্ধুরা!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে ইরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রচণ্ড শক্তিক্ষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের। প্রতিদিনই যুদ্ধব্যয় বাড়তে থাকায় ইতোমধ্যে চাপের মধ্যে পড়ে গেছে দুই দেশের সরকার। সেইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি সচল করতে যুক্তরাজ্য-চীনসহ নিজের প্রধান মিত্র দেশগুলোর কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাহায্যের জন্য ন্যাটোকেও দিয়েছেন কঠোর হুঁশিয়ারি। কিন্তু, বিপদের এই মুহূর্তে কারও কাছ থেকেই কোনও সাড়া পাচ্ছেন না ট্রাম্প। ইসরায়েলের উসকানিতে সাড়া দিয়ে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর এএফপির।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একদিন আগেই নিজের মিত্রদের সতর্ক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্র দেশগুলো যদি এই অঞ্চলে সামরিক সহায়তা প্রদান না করে, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের এমন হুমকির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাই যুক্তরাজ্যের প্রধান অগ্রাধিকার।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেছেন, ব্রিটেন নিজেকে কোনো ব্যাপক সংঘাতের অংশ হতে দেবে না এবং ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।

অবশ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না দেওয়ায় ট্রাম্প এর আগে স্টারমারের কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।’

এমনকি স্টারমারকে ‘উইনস্টন চার্চিলের বিপরীত’ বলেও খোঁচা দেন তিনি। যদিও গতকালের টেলিফোন আলাপে দুই নেতা প্রণালি সচল করার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন, কিন্তু সামরিক সহায়তার বিষয়ে বরফ গলেনি।

ইরান যুদ্ধকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে এতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফ্রান্সও। যুদ্ধে জড়াতে ট্রাম্পকে আহ্বানে না করে দিয়েছে জার্মানিও। এমনকি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি দিয়ে খোলা রাখার প্রক্রিয়ায়ও যুক্ত হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। এছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে কোন সামরিক তৎপরতায় জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে গ্রীস।  

ট্রাম্পের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার এশীয় মিত্ররাও। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে এবং ‘সতর্ক পর্যালোচনার পরে’ সিদ্ধান্ত নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুই প্রধান মিত্র জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

এর জেরে পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ সামরিক অভিযানে প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। ১৭ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission