লালন ব্যান্ডে ভাঙন, সুমি-তিতির দাম্পত্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪ , ০১:০২ পিএম


লালন ব্যান্ডে ভাঙন, সুমি-তিতির দাম্পত্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
ছবি : সংগৃহীত

এক-দুদিন নয়, দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলার ইতি টেনে ‘লালন’ ব্যান্ড ছেড়েছেন দলনেতা ও ড্রামার থেইন হান মং তিতি। কারণ হিসেবে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ‘ব্যান্ডের চেয়ে ব্যক্তির প্রাধান্য’ বেড়ে গেছে। সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত। 

তার ব্যান্ড ছাড়ার খবরের সঙ্গে সামনে এসেছে আরেকটি বিষয়। ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী সুমির সঙ্গে তিনি যে  বৈবাহিক সম্পর্কে রয়েছেন, তার ভবিষ্যৎ কী? 

এ ব্যাপারে তিতির বলেছেন, ব্যান্ড ছাড়ার সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। আর ব্যক্তিগত জীবন কোথায় যাবে, তা কেবল সময়ই বলে দেবে। 

তিনি আরও বলেন, কেউ মুক্তি চাইলে তাকে মুক্তি দিতে হয়। সুমি হয়তো আমার সঙ্গে ব্যান্ড করতে চায় না। আর সমস্যা যেহেতু আমাকে নিয়ে, তাই আমি সরে এসেছি। তবে আমি কাউকে কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।

বিগত কয়েক বছর ধরে তিতি ও সুমির এই সমস্যাগুলো চলছিল। তবে তা বিরাট আকার ধারণ করে গত পাঁচ-ছয় মাসে। বিশেষ করে তিতির হাতে ব্যান্ডের সব ব্যবস্থাপনা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জায়গায় শো বুকিংয়ের পর তা বাতিল করতেন সুমি। যার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনি লালন ব্যান্ড। এতে করে আয়োজকদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয় তিতির।

দিন যতই গড়াতে থাকে, ততই সুমির দর্শনে পরিবর্তন দেখতে পান তিতি। যা তাকে ডুবিয়েছে চরম হতাশায়। কারণ, তিতির ইচ্ছা ছিল ফকির লালন সাঁইয়ের দর্শনে বিশ্বাসী ব্যান্ডটির কাছে কখনো অর্থ বড় হয়ে উঠবে না। বিশ্বাস ছিল সুমিকেও কখনো তারকাখ্যাতি ও অহমিকা স্পর্শ করবে না। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। তারকাখ্যাতি, অহংকার, লোভ— সবই ঘিরে ধরেছে সুমিকে।

বিষয়টি নিয়ে তিতি বলেন, ফকির লালন সাঁইয়ের সঙ্গে লোভ ব্যাপারটা যায় না। যেহেতু আমরা তার জীবনদর্শনে বিশ্বাসী, তাই অনেক কিছুই আমাদের ভেবেচিন্তে করতে হয়। জিবে যদি আমাদের লোভ জন্মায়, তবে কেন আমরা তার গান করছি?

তিনি আরও বলেন, কণ্ঠশিল্পী সুমির কাছে প্রায় সবসময়ই গাড়ি-বাড়ির অফার আসতো। কিন্তু মিউজিক করে অন্যদের মতো সম্পদের মালিক হতে না পারায় বিষয়গুলো তার মধ্যে কাজ করছিল। 

শেষ কয়েক বছর তিতির দেখতে পান সুমির মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো ভর করেছে। এ নিয়ে তাকে একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টাও করেন তিনি। কিন্তু লাভ হয়নি। উল্টো দেখতে পান তিতিকে এড়িয়ে চলছেন সুমি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনায় নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছেন সুমি। ব্যান্ডের সঙ্গে ওই অর্থে তার যোগাযোগ নেই। সপ্তাহ দু-এক আগে সুমির মা এক ফোনকলে তিতিকে জানিয়েছিলেন, তার মেয়ে আপাতত তার ওখানেই থাকবে। আর সংগীত নিয়ে সে আপাতত কিছু ভাবছে না। 

সুমি ও তিতির বিয়ে হয় ২০১০ সালে। তবে বিষয়টি সেভাবে কখনো জানাজানি হয়নি। এখন এই অবস্থায় এসে দাম্পত্য সম্পর্ক কোন পর্যায়ে বা কেমন রয়েছে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে তিতি বলেন, আমার জানা নেই। তবে এতটুকু বলে রাখি, ব্যান্ডের যেকোনো বিষয়ের মতো সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সুমির সিদ্ধান্ত সুপ্রিম। তাই যা বলার, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।  

সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, আমি কোনোভাবেই চাই না আমার ও সুমির এই সম্পর্কের জটিলতার কারণে ব্যান্ডের কোনো ক্ষতি হোক। দরকার হলে নতুন কোনো ড্রামার নিয়ে হলেও যেন ব্যান্ডটি চলে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লালন ব্যান্ডের সর্বশেষ শো অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গিয়ে তিতি আলাদা একটি হোটেলে ছিলেন। এর আগে সিলেটের একটি শো শেষ করে গাড়িতে ঢাকায় ফেরার পথে সুমির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বাগবিতণ্ডা হয় তিতির। তখন সুমি তাকে বিভিন্ন বিষয়ে দোষারোপের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে তোলেন অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও। পরে নরসিংদীতে গাড়ি থেকে নেমে যান তিতি। ঢাকায় আসেন ভাড়া করা বাইকে। এরপর ১০ মার্চ শিল্পকলা একাডেমিতে শো থাকলেও সুমি তা একক সিদ্ধান্তে বাতিল করেন। মূলত তখনই তিতি নেন ব্যান্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission