ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্ধ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই সচিবালয়ের সব বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হলেও বর্তমান সরকার তা আর আইনে পরিণত করেনি। ফলে এই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা লোপ পাওয়ায় আগের নিয়মেই ফিরে গেছে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো।

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে ‘নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ’ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এরপর দীর্ঘ দুই দশক কেটে গেলেও এই নীতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন গ্রেড নিয়ে ক্ষোভের জেরে তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারক হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস করার আদেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এক রায় প্রদান করেন, যা ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়’ নামে পরিচিত।

আপিল বিভাগের ওই রায়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন করা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে রাখা এবং নিম্ন আদালতের বার্ষিক বাজেট সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে প্রণয়নসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন

রায়ের প্রায় আট বছর পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ঘোষণা করা হলেও তা মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ২১ সেপ্টেম্বর এক অভিভাষণে তিনি মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ এখতিয়ার বা দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বিলোপ না হলে বিচারকদের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে না।

প্রধান বিচারপতির এই প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকার তা আইনে রূপান্তর না করায় আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল সেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন নজরুলপত্মী মাকছুদা, আটকে রাখার আবেদন
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম।  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছেন তিনি। আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম। রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন।  সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। তিনি এজাহারে লিখেছেন, লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান। আরটিভি/এসআর
রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন নজরুলপত্মী মাকছুদা, আটকে রাখার আবেদন
টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর মামলায় স্বামী মুস্তাককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার অপরাধে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
টাঙ্গাইলে আলোচিত চেয়ারম্যান ফারুক হত্যা মামলার রায় ঘোষণা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিএনপি নেতা ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
টাঙ্গাইলে আলোচিত চেয়ারম্যান ফারুক হত্যা মামলার রায় ঘোষণা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন
কবর থেকে তোলা হবে গণপিটুনিতে নিহত সেলিম খান ও শান্ত খানের মরদেহ
চাঁদপুরের আলোচিত সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হবে।
কবর থেকে তোলা হবে গণপিটুনিতে নিহত সেলিম খান ও শান্ত খানের মরদেহ
রিমান্ডে গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রিমান্ডে গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী
আরও পড়ুন
আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক-গাড়িচালকের আলোচিত ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ৩ সাপ, অতঃপর...
ফাঁসির বদলে ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন, যা বলল আদালত
শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ