ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুকে অস্বীকার, ১৩ বছর পর যা হলো

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৫০ পিএম


ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুকে অস্বীকার, ১৩ বছর পর যা হলো
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার বারহাট্টার বহুল আলোচিত এক ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে মামলার একমাত্র আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুকে আসামির বৈধ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার পিতৃপরিচয় ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করেছেন আদালত।

এছাড়া আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বারহাট্টা উপজেলার নিজ বসতঘরে তালাকপ্রাপ্ত নারীকে ধর্ষণ করে আসামি হেলাল। বিষয়টি প্রকাশ করলে ওই নারীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। 

এই ঘটনায় ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আসামি হেলাল ধর্ষণের ঘটনা ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হলে প্রমাণিত হয় যে, শিশুটির জৈবিক পিতা হেলাল।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হয়েছে। ফলে সে হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, পিতার সম্পত্তিসহ সব ধরনের আইনগত অধিকারের দাবিদার হবে।

অভিযোগ দায়েরের এক বছর পর অর্থাৎ মামলা চলাকালীন ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর পর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি (যে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী) আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আদালতে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছে।

আদালত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং ডিএনএ প্রমাণসহ অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

পাবলিক প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু একজন ধর্ষকের শাস্তিই নিশ্চিত হয়নি, বরং একটি শিশু তার সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনগত অধিকার ফিরে পেয়েছে। এটি ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission