ইফতারে কেন খাবেন দই-চিড়া ?

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৩৯ পিএম


ইফতারে কেন খাবেন দই-চিড়া ?
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ তেরো থেকে চৌদ্দ ঘণ্টা সিয়াম সাধনার পর শরীরের প্রতিটি কোষে প্রয়োজন পড়ে সঠিক পুষ্টি ও পানির জোগান। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী ইফতার মানেই যেন বেগুনি, পিঁয়াজু আর আলুর চপ। তবে এই তেল-মশলাযুক্ত ভাজাপোড়া খাবারগুলো সারা দিন খালি থাকা পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি ও হজমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

ক্লান্তি দূর করে শরীরে তাৎক্ষণিক প্রশান্তি ও প্রাণচঞ্চলতা ফিরিয়ে দিতে ‘দই-চিড়া’ হতে পারে ইফতারের এক আদর্শ ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প। পুষ্টিবিদদের মতে, রমজানের এই সময়ে পেট ঠান্ডা রাখা এবং দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো খাবার খুব কমই আছে।

চিড়া মূলত শুকনো চাল থেকে তৈরি একটি সহজপাচ্য শর্করা। এতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা ইফতারের পর দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শরীরকে তাৎক্ষণিক চনমনে করে তোলে। অন্য দিকে দই হলো একটি প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক, যা প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে ইফতারে মিষ্টি দইয়ের চেয়ে টক দই বেশি উপকারী, কারণ এটি হজমপ্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা চিরতরে দূর করতে সাহায্য করে। এই দুইয়ের মেলবন্ধনে তৈরি দই-চিড়া শুধু ক্ষুধা মেটায় না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ পানির অভাব পূরণ করে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, চিড়ায় পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক কম থাকে। ফলে যারা কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ইফতারে চিড়া অত্যন্ত নিরাপদ ও উপকারী একটি খাবার। এ ছাড়া চিড়ায় আঁশের পরিমাণ কম থাকায় এটি অন্ত্রের প্রদাহ, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ডাইরিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

চিড়ার প্রোটিন সহজে শোষণযোগ্য হওয়ায় এটি বিভিন্ন পাকস্থলীর সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আরামদায়ক। তবে মনে রাখতে হবে, চিড়ায় উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচক থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর পরিমাণ বুঝে খাওয়া জরুরি।

রমজানের তীব্র গরমে বা ক্লান্তিতে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা ও মানসিক চাপ বাড়ে। দইয়ে থাকা ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক উপাদান মস্তিষ্কে প্রশান্তি আনে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। এ ছাড়া দইয়ের ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত রাখে এবং পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য এই খাবারটি আশীর্বাদস্বরূপ। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, ফলে ইফতারের পর বারবার অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দই-চিড়ার জুড়ি মেলা ভার।

এই রমজানে তাই পেটকে শান্ত রাখতে এবং পুরো শরীরকে কর্মচঞ্চল করতে প্রতিদিনের ইফতার মেনুতে যোগ করুন দই-চিড়া। স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে যোগ করতে পারেন কলা, খেজুর কিংবা সামান্য মধু। এটি আপনাকে দেবে ইবাদতে বাড়তি একাগ্রতা এবং শারীরিক প্রশান্তি।

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission