পবিত্র রমজান মাসে ইবাদত ও সিয়াম সাধনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা সমস্যায় ভুগছেন, রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার বা নেবুলাইজার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তাদের জন্য একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা রাখা অবস্থায় খাদ্যনালীতে বাহির থেকে নিরেট বাতাস ছাড়া অন্য কিছু প্রবেশ করলেই রোজা ভেঙে যায়। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে আলেম ও ফতোয়া বিশেষজ্ঞরা নেবুলাইজার ও ইনহেলার ব্যবহারের ফলে রোজার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
নেবুলাইজার মূলত এমন একটি যন্ত্র যার মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট দূরীকরণের ওষুধ তরল বা বাষ্প আকারে রোগীর ফুসফুসে প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় ওষুধের সূক্ষ্ম কণা বা তরল পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে সরাসরি শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে, তাই রোজা রাখা অবস্থায় নেবুলাইজার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে।
এক্ষেত্রে ওই রোজার জন্য পরবর্তীতে কাজা আদায় করা ওয়াজিব। তবে কোনো রোগী যদি এতটাই অসুস্থ বা অক্ষম হন যে তার পক্ষে ভবিষ্যতে রোজা রাখা বা কাজা আদায় করা সম্ভব নয়, তবে শরয়ি বিধান অনুযায়ী তাকে প্রতিটি রোজার জন্য একটি করে 'ফিদইয়া' আদায় করতে হবে।
ফিদইয়া আদায়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম। প্রত্যেকটি রোজার ফিদইয়া হলো সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ খাদ্য বা অর্থ। পরিমাপের হিসেবে এটি ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম (মতান্তরে ১.৬ কেজি ৭৪ গ্রাম ৬৪০ মি.গ্রা.) গম বা তার সমপরিমাণ বাজারমূল্য। একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে প্রতিদিন এক ফিতরা পরিমাণ করে ৬০ দিন দিলেও এটি আদায় হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ৬০ দিনের ফিতরা পরিমাণ অর্থ বা খাদ্য একত্রে বা এক দিনে দিলে ফিদইয়া পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় হবে না, বরং প্রতিদিনের হিসেবেই তা বণ্টন করতে হবে।
অন্যদিকে, শ্বাসকষ্টের রোগীদের অতি পরিচিত আরেকটি পদ্ধতি হলো ইনহেলার। ইনহেলার ব্যবহারের সময় বিশেষ পদ্ধতিতে মুখের ভেতরভাগে স্প্রে করতে হয়, যা শ্বাসরুদ্ধ জায়গাটিকে প্রশস্ত করে দেয় এবং তাৎক্ষণিক স্বস্তি প্রদান করে। যদিও স্প্রে করার সময় ওষুধটি গ্যাসের মতো মনে হয়, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি আসলে দেহবিশিষ্ট তরল ওষুধ। যেহেতু এটি সরাসরি মুখের ভেতরে প্রবেশ করে এবং খাদ্যনালীর সীমানা অতিক্রম করে, তাই ইনহেলার ব্যবহার করলেও রোজা ভেঙে যাবে। এমতাবস্থায় রোজাদারকে পরবর্তীতে ওই রোজার কাজা আদায় করে নিতে হবে।
অসুস্থ অবস্থায় ইসলামের এই সহজ বিধানগুলো মেনে চলা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যারা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন, তারা সাহরির শেষ সময়ে বা ইফতারের পর দীর্ঘমেয়াদী কাজ করে এমন ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে দিনের বেলা ইনহেলারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারেন। তবে জীবন রক্ষার্থে বা তীব্র সংকটে ইনহেলার ব্যবহার করলে কোনো গুনাহ হবে না, কেবল ওই রোজার কাজা পরবর্তীতে আদায় করে নিলেই চলবে।
আরটিভি/এআর




