বাতাসের মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস (টিবি)। প্রাণঘাতী এই সংক্রামক রোগ সম্পর্কে এখনও অনেকের মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে যক্ষ্মার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
যক্ষ্মা মূলত মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে হয়। এটি সাধারণত ফুসফুসকে আক্রান্ত করলেও কিডনি, মেরুদণ্ড এবং মস্তিষ্কের মতো শরীরের অন্যান্য অংশেও প্রভাব ফেলতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তাই শরীরকে যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে পুষ্টি, বিশ্রাম ও জীবনযাপনের ওপর।
যক্ষ্মার ঝুঁকি কমাতে যেসব ৫ অভ্যাস জরুরি:
১. পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খেতে হবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি। এ ছাড়া গোটা শস্য, মিলেট, ডাল, বাদাম ও বীজ নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেশি নুন-চিনিযুক্ত খাবার এবং ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলতে হবে। এসব খাবার অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া বাড়িয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
২. প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকতে হবে
প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সূর্যালোকে থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি শরীরের এমন কিছু কোষকে সক্রিয় করে, যা টিবি ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভূমিকা রাখে। ফলে রোগের ঝুঁকি কমে এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত সেরে ওঠার সম্ভাবনাও বাড়ে।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি
শরীরকে জলশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। এতে শরীর থেকে বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ বের হয়ে যেতে সাহায্য করে এবং রোগ থেকে দ্রুত সেরে ওঠার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হয়।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে
সঠিক সময়ে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সময় শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে এবং নতুন শক্তি সঞ্চয় করে। বিশেষ করে গভীর ঘুমের সময় শরীরে সাইটোকাইন নামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরি হয়, যা টিবি ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে।
৫. ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে
যক্ষ্মার জীবাণু সাধারণত বদ্ধ ঘরের বাতাসে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। তাই ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত দু’বার ৩০ মিনিটের জন্য ঘরের বিপরীতমুখী দরজা-জানালা খুলে রাখতে হবে। এতে ‘ক্রস-ভেন্টিলেশন’ তৈরি হয় এবং ঘরের ভেতরের জীবাণুর ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
সচেতনতাই হতে পারে সুরক্ষা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
যদি দীর্ঘদিন কাশি, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, রাতে ঘাম হওয়া বা দুর্বলতা দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরটিভি/এসকে




