গরমের দিনে কিংবা বাংলা নববর্ষে পান্তা ভাত বাঙালির প্রিয় খাবারগুলোর একটি। অনেকেই মনে করেন, পান্তা শরীর ঠান্ডা রাখে এবং হজমেও সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পান্তা ভাত খেলে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পান্তা ভাত মূলত ভাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা হয়। এ সময় ভাতে স্বাভাবিকভাবেই নানা ধরনের জীবাণু তৈরি হয়। এগুলোর কিছু শরীরের জন্য উপকারী হলেও কিছু মানুষের শরীরে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের শরীরে হিস্টামিন সহ্য করার ক্ষমতা কম, তাদের পান্তা খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। এ ধরনের খাবারে হিস্টামিনের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে মাথাব্যথা, অ্যালার্জি কিংবা পেটের অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, যেমন দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগছেন বা কঠিন রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের ক্ষেত্রেও পান্তা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ এতে থাকা জীবিত জীবাণু কখনো কখনো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও পান্তা খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সঠিকভাবে প্রস্তুত না হলে এতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এছাড়া যাদের পেটের সমস্যা রয়েছে, যেমন সংবেদনশীল হজম ব্যবস্থা বা বারবার পেটের গোলমাল হয়। তাদের পান্তা খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা বাড়তে পারে।
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদেরও পান্তা খাওয়ার সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়। কারণ অনেক সময় পান্তার সঙ্গে লবণযুক্ত ভর্তা বা আচার খাওয়া হয়। যা শরীরে লবণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পান্তা ভাত অনেকের জন্য উপকারী হলেও সবার জন্য নয়। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরটিভি/জেএমএ



