ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

১০০ বছর বাঁচার উপায় জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর কিছু জায়গায় মানুষ অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ জীবন পায়। সেখানে শত বছর পার করা যেন খুব অদ্ভুত কিছু নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব অঞ্চলে জন্ম নেওয়া মানুষের শত বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি।

বিশ্বের এমন পাঁচটি জায়গা নিয়ে গবেষণা করে বিশেষজ্ঞরা খুঁজে পেয়েছেন দীর্ঘ জীবনের কিছু গোপন সূত্র। এই অঞ্চলগুলো হলো—নিকোয়া (কোস্টারিকা), সার্ডিনিয়া (ইতালি), ইকারিয়া (গ্রিস), ওকিনাওয়া (জাপান) এবং লোমা লিন্ডা (ক্যালিফোর্নিয়া)। গবেষণায় এসব অঞ্চলকে বলা হয় দীর্ঘজীবী অঞ্চল। এমনই তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

কম খাওয়া, বেশি বাঁচা

এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় অভ্যাস হলো খাবারে সংযম। তারা কখনোই পেট ভরে খায় না। জাপানের ওকিনাওয়ায় বয়স্কদের একটি পুরোনো নিয়ম আছে, পেটের ৮০ ভাগ ভরলেই খাওয়া বন্ধ।

গবেষণায় দেখা গেছে, কম ক্যালোরি গ্রহণ শরীরে বয়সজনিত অনেক রোগের ঝুঁকি কমায়। এতে ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো সমস্যার সম্ভাবনা কম থাকে।

শাকসবজি আর ফলই প্রধান খাবার

এই অঞ্চলগুলোর মানুষের খাবারের তালিকায় মাংস খুব কম। বরং শাকসবজি, ফল, ডাল ও উদ্ভিদভিত্তিক খাবারই বেশি। এতে শরীরের হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সহজ হয়।

জাপানের ওকিনাওয়ায় মিষ্টি আলু ও করলা ধরনের সবজি বেশি খাওয়া হয়। এগুলো শরীরে শক্তি ধীরে ধীরে দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

চা ও কফির অভ্যাস

গ্রিসের ইকারিয়া দ্বীপে মানুষ প্রতিদিন কয়েক কাপ চা ও কফি পান করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এসব পানীয়তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

পরিবার ও সমাজের বন্ধন

শুধু খাবার নয়, সামাজিক সম্পর্কও দীর্ঘ জীবনের বড় কারণ। এসব অঞ্চলের মানুষ পরিবার ও সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে। নিয়মিত বন্ধু-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমায় এবং মানুষকে সক্রিয় রাখে।

আধ্যাত্মিকতা ও জীবনের উদ্দেশ্য

এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকদের মতে, জীবনের একটি উদ্দেশ্য থাকা এবং নিয়মিত প্রার্থনা বা ধ্যান মানসিক শান্তি দেয়। এতে আয়ু কয়েক বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রকৃতির সঙ্গে সক্রিয় জীবন

ইতালির সার্ডিনিয়ার অনেক মানুষ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে এবং জীবনের বড় সময় কৃষিকাজে কাটায়। প্রতিদিনের এই শারীরিক পরিশ্রমই তাদের সুস্থ ও দীর্ঘজীবী থাকতে সাহায্য করে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ জীবনের জন্য কোনো জাদুকরী ওষুধ নেই। বরং কিছু সহজ অভ্যাসই মানুষের আয়ু বাড়াতে পারে। কম খাওয়া, বেশি হাঁটা-চলা, শাকসবজি খাওয়া, পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখা।

বিশ্বের এই পাঁচ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন যেন আমাদের একটি বড় বার্তাই দেয় যে, সংযম আর সুস্থ অভ্যাসই হতে পারে দীর্ঘ জীবনের আসল রহস্য।

সূত্র: বিবিসি


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
শরীরে পানিশূন্যতা? অবহেলা নয়, চিনে নিন লক্ষণ ও বাঁচার উপায়