পৃথিবীর কিছু জায়গায় মানুষ অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ জীবন পায়। সেখানে শত বছর পার করা যেন খুব অদ্ভুত কিছু নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব অঞ্চলে জন্ম নেওয়া মানুষের শত বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি।
বিশ্বের এমন পাঁচটি জায়গা নিয়ে গবেষণা করে বিশেষজ্ঞরা খুঁজে পেয়েছেন দীর্ঘ জীবনের কিছু গোপন সূত্র। এই অঞ্চলগুলো হলো—নিকোয়া (কোস্টারিকা), সার্ডিনিয়া (ইতালি), ইকারিয়া (গ্রিস), ওকিনাওয়া (জাপান) এবং লোমা লিন্ডা (ক্যালিফোর্নিয়া)। গবেষণায় এসব অঞ্চলকে বলা হয় দীর্ঘজীবী অঞ্চল। এমনই তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে।
কম খাওয়া, বেশি বাঁচা
এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় অভ্যাস হলো খাবারে সংযম। তারা কখনোই পেট ভরে খায় না। জাপানের ওকিনাওয়ায় বয়স্কদের একটি পুরোনো নিয়ম আছে, পেটের ৮০ ভাগ ভরলেই খাওয়া বন্ধ।
গবেষণায় দেখা গেছে, কম ক্যালোরি গ্রহণ শরীরে বয়সজনিত অনেক রোগের ঝুঁকি কমায়। এতে ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো সমস্যার সম্ভাবনা কম থাকে।
শাকসবজি আর ফলই প্রধান খাবার
এই অঞ্চলগুলোর মানুষের খাবারের তালিকায় মাংস খুব কম। বরং শাকসবজি, ফল, ডাল ও উদ্ভিদভিত্তিক খাবারই বেশি। এতে শরীরের হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সহজ হয়।
জাপানের ওকিনাওয়ায় মিষ্টি আলু ও করলা ধরনের সবজি বেশি খাওয়া হয়। এগুলো শরীরে শক্তি ধীরে ধীরে দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চা ও কফির অভ্যাস
গ্রিসের ইকারিয়া দ্বীপে মানুষ প্রতিদিন কয়েক কাপ চা ও কফি পান করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এসব পানীয়তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সাহায্য করে।
পরিবার ও সমাজের বন্ধন
শুধু খাবার নয়, সামাজিক সম্পর্কও দীর্ঘ জীবনের বড় কারণ। এসব অঞ্চলের মানুষ পরিবার ও সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে। নিয়মিত বন্ধু-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমায় এবং মানুষকে সক্রিয় রাখে।
আধ্যাত্মিকতা ও জীবনের উদ্দেশ্য
এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকদের মতে, জীবনের একটি উদ্দেশ্য থাকা এবং নিয়মিত প্রার্থনা বা ধ্যান মানসিক শান্তি দেয়। এতে আয়ু কয়েক বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।
প্রকৃতির সঙ্গে সক্রিয় জীবন
ইতালির সার্ডিনিয়ার অনেক মানুষ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে এবং জীবনের বড় সময় কৃষিকাজে কাটায়। প্রতিদিনের এই শারীরিক পরিশ্রমই তাদের সুস্থ ও দীর্ঘজীবী থাকতে সাহায্য করে।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘ জীবনের জন্য কোনো জাদুকরী ওষুধ নেই। বরং কিছু সহজ অভ্যাসই মানুষের আয়ু বাড়াতে পারে। কম খাওয়া, বেশি হাঁটা-চলা, শাকসবজি খাওয়া, পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখা।
বিশ্বের এই পাঁচ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন যেন আমাদের একটি বড় বার্তাই দেয় যে, সংযম আর সুস্থ অভ্যাসই হতে পারে দীর্ঘ জীবনের আসল রহস্য।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



