মাইকেল জ্যাকসনের কি সত্যিই ছোঁয়াচে রোগ ছিল?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ১২:৪০ পিএম


মাইকেল জ্যাকসনের কি সত্যিই ছোঁয়াচে রোগ ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে অনেকের ত্বকে দুধ-সাদা ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। এই দীর্ঘমেয়াদী ত্বকের সমস্যাকেই শ্বেতী বা ধবল রোগ বলা হয়, যার চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক নাম ভিটিলিগো। বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনও এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তবে এ রোগ নিয়ে সমাজে নানা ভুল ধারণা রয়েছে—কারও মতে এটি ছোঁয়াচে, আবার কারও মতে অভিশাপ। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণাগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আসলে শ্বেতী রোগ কী এবং এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—সেই সত্যটাই এখন জানা জরুরি। 

বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনও শ্বেতী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তার শরীরের ত্বকের রঙ ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে শুরু করে, যা জীবনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরে ২০০৯ সালের ২৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মৃতিকে স্মরণ করেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়, এবং প্রতিবছর ২৫ জুন বিশ্ব শ্বেতী দিবস পালন করা হয়।

শ্বেতী রোগ কীভাবে হয়

মানবদেহের ত্বকের রঙ তৈরি হয় মেলানিন নামের উপাদান দিয়ে। এই মেলানিন তৈরি করে মেলানোসাইট নামের কোষ। যখন এই কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায় বা কাজ বন্ধ করে দেয়, তখন ত্বকের কিছু অংশ সাদা হয়ে যায়। এটাই শ্বেতী রোগ। গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত।

ছোঁয়াচে নয়, বরং ভেতরের সমস্যা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বেতী রোগ কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এটি স্পর্শ, খাবার বা কাছাকাছি থাকলে ছড়ায় না। এটি মূলত শরীরের ভেতরের ইমিউন সিস্টেম, জিনগত পরিবর্তন এবং কিছু ক্ষেত্রে মানসিক চাপের কারণে হয়ে থাকে। কখনো কখনো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের মেলানোসাইট কোষকেই ধ্বংস করে ফেলে। আবার বংশগত কারণেও এটি হতে পারে।

আরও পড়ুন

কাদের ঝুঁকি বেশি

যাদের আগে থেকেই অটোইমিউন রোগ আছে যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা রক্তশূন্যতা—তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। ৩০ বছরের আগেই এই রোগের লক্ষণ বেশি দেখা যায়।

লক্ষণ কী

শরীরের যে কোনো অংশে সাদা দাগ দেখা দিতে পারে—মুখ, হাত, চোখ, ঠোঁট বা পায়ের অংশে বেশি দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে এগুলো বড় হয়ে যেতে পারে। তবে এটি ব্যথাহীন রোগ।

চিকিৎসা আছে, তবে সম্পূর্ণ নিরাময় নেই

শ্বেতী রোগ সম্পূর্ণভাবে সারানোর নিশ্চিত কোনো চিকিৎসা নেই। তবে স্টেরয়েড ক্রিম, আলো থেরাপি বা কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাগ কিছুটা কমানো যায়। তবে তা স্থায়ী নয়।

জরুরি সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ নিয়ে ভয় বা সামাজিক দূরত্ব তৈরি করা ঠিক নয়। কারণ এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়। বরং মানসিক চাপ কমানো, ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শ্বেতী রোগ শরীরের রঙ বদলায়, কিন্তু মানুষকে আলাদা করে না—এটাই বাস্তব সত্য।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission