যেসব পুরুষকে বলা হয়েছিল তাদের শরীরে কোনো শুক্রাণু নেই, তাদের জন্য নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নির্ভর আধুনিক প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি এমন শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে। যা আগে মানবচোখে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনের বরাতে এমনটাই জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বসবাসরত এক দম্পতির দীর্ঘ আড়াই বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে এই প্রযুক্তির সাহায্যে। বহু চেষ্টা ও ব্যর্থতার পর তারা অবশেষে জানতে পারেন, সন্তান আগমনের সুখবর।
চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, স্বামীর শরীরে ক্লাইনফেল্টার নামের একটি জিনগত সমস্যা রয়েছে। এই অবস্থায় অনেক সময় পুরুষদের বীর্যে শুক্রাণু থাকে না বা খুবই অল্প থাকে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া।
নতুন প্রযুক্তির নাম স্টার পদ্ধতি
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করেছেন একটি নতুন প্রযুক্তি, যার নাম স্টার পদ্ধতি। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শুক্রাণু শনাক্ত করে এবং সেগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করতে সাহায্য করে।
এই পদ্ধতিতে উন্নত চিত্রায়ন প্রযুক্তি ও সূক্ষ্ম চিপ ব্যবহার করা হয়, যা নমুনা বিশ্লেষণ করে ক্ষুদ্রতম শুক্রাণুও খুঁজে বের করতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি এমন এক ধরনের প্রযুক্তি যা একসঙ্গে হাজারো ছবি বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিরল শুক্রাণু শনাক্ত করতে পারে।
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি
নমুনা বিশেষ চ্যানেলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত করা হয় এবং প্রতিটি অংশ ক্যামেরায় স্ক্যান করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মুহূর্তের মধ্যে শুক্রাণু শনাক্ত করে এবং রোবটিক সিস্টেম সেটি আলাদা করে সংগ্রহ করে।
গবেষকদের দাবি, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই প্রযুক্তি বহু গুণ বেশি কার্যকরভাবে শুক্রাণু শনাক্ত করতে পারে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সফলতা
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া শুক্রাণু ব্যবহার করে একটি সফল গর্ভধারণ সম্ভব হয়েছে। বহু বছরের বন্ধ্যত্বের লড়াই শেষে এই দম্পতির জীবনে এসেছে নতুন আনন্দ।
গবেষকরা জানান, ভবিষ্যতে আরও অনেক দম্পতি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্তান লাভের সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি চিকিৎসা তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
তাদের মতে, নতুন প্রযুক্তি আশার আলো দেখালেও সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ফল নিশ্চিত নয়।
যেখানে আগে সন্তানহীনতার নিরাশা ছিল, সেখানে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আধুনিক প্রযুক্তি হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেক দম্পতির জীবনে নিয়ে আসবে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের আনন্দ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ




