বয়স চল্লিশ পেরিয়েও অনেক নারীই স্বাভাবিকভাবে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, সঠিক প্রস্তুতি থাকলে এ বয়সেও মাতৃত্ব সম্ভব। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর মান ও সংখ্যা কমে যায়, হরমোনের ভারসাম্যও অনিয়মিত হতে পারে। তাই শরীরকে প্রস্তুত রাখা খুবই জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম ও ইয়োগা বা যোগ ব্যায়াম প্রজনন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে পেলভিক অংশের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে জরায়ুকে শক্তিশালী করে তোলে কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম।
বদ্ধ কোণাসন বা বন্ধ কোণ ভঙ্গি
এই আসনটি পেলভিক পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। মেঝেতে বসে দুই পায়ের পাতা একসঙ্গে জুড়ে ধরতে হয়। এরপর হাঁটু ওপর-নিচ করে ধীরে ধীরে নড়াচড়া করতে হয়। এতে শ্রোণিদেশে (কোমরের নিচের অংশে বা নিতম্বের আশপাশে) রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং জরায়ুর কার্যক্ষমতা উন্নত হয়।
সেতু বন্ধাসন বা পেলভিক টিল্ট
চিৎ হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে কোমর ধীরে ধীরে উপরে তুলতে হয়। কিছুক্ষণ ধরে রেখে আবার নামাতে হয়। এই ব্যায়াম পেলভিক অঞ্চলের পেশি শক্ত করে এবং প্রজনন অঙ্গের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
মালাসন বা ডিপ স্কোয়াট
দুই পা একটু ফাঁক রেখে ধীরে ধীরে বসার ভঙ্গিতে নামতে হয়। কনুই হাঁটুর ভেতরে রেখে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। এটি শরীরের নিচের অংশের পেশি শক্ত করে এবং প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নত করে।
বেঞ্চ স্টেপ আপ
একটি উঁচু জায়গায় এক পা রেখে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে হয়, তারপর অন্য পায়ে একইভাবে করতে হয়। এই ব্যায়াম শরীরের শক্তি ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
চল্লিশের পর মাতৃত্বে ঝুঁকি থাকলেও সঠিক জীবনযাপন ও নিয়মিত ব্যায়াম সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরকে প্রস্তুত রাখাই এই বয়সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আরটিভি/জেএমএ




