প্রতিনিয়তই বিশ্ব কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে। এর মধ্যে খুবই বিধ্বংসী একটি হলো ভূমিকম্প। সাধারণত কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই এটি সংঘটিত হয়ে থাকে। তাই এর ক্ষয়ক্ষতিও অনেক বেশি হয়ে থাকে।
এ সময় অনেকেই আতঙ্কে টিভি, ফ্রিজ, এসি বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ করতে ছুটে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের জীবন রক্ষা করা টিভি বা ফ্রিজ বন্ধ করা নয়। কারণ কয়েক সেকেন্ডের কম্পনের মধ্যে সুইচ বন্ধ করতে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
ভূমিকম্পের সময় কী করবেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর নির্দেশনা বেশ স্পষ্ট। তারা বলছে, প্রথম কাজ হলো ড্রপ, কভার অ্যান্ড হোল্ড অন অর্থাৎ নিচু হয়ে মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং মাথা রক্ষা করা। এই সময় জানালা, ভারী আসবাব, টিভি বা ফ্রিজের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প চলাকালীন টিভি বা ফ্রিজ বন্ধ করতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ কম্পনের সময় বড় ইলেকট্রনিক যন্ত্র নড়ে যেতে পারে বা পড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিজ ও টিভি পড়ে গিয়ে আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।
তবে ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করা জরুরি। যদি কোথাও স্পার্ক, পোড়া গন্ধ, গ্যাস লিক বা শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা থাকে, তাহলে দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে টিভি, ফ্রিজসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি থাকলে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অনেকেই ভাবেন, ভূমিকম্পের সময় ফ্রিজ বন্ধ করে দেওয়া উচিত কি না। সাধারণ পরিস্থিতিতে ফ্রিজ চালু থাকলেও সমস্যা নেই। বরং অকারণে বারবার বন্ধ করলে খাবার সংরক্ষণে সমস্যা হতে পারে। তবে যদি বড় ধরনের কম্পনের পর বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দেয় বা বন্যা/পানি ঢোকার ঝুঁকি থাকে, তখন ফ্রিজের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা নিরাপদ।
ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বিশেষজ্ঞরা টিভি, ফ্রিজ ও ভারী আসবাব দেয়ালের সঙ্গে আটকে রাখার পরামর্শ দেন। এতে কম্পনের সময় সেগুলো পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি বাড়ির সবাইকে আগে থেকেই জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
ভূমিকম্প চলাকালীন টিভি বা ফ্রিজ বন্ধ করতে যাওয়ার চেয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কম্পন থেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
সূত্র: মিশিগান টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়, বেটার হোম অ্যান্ড গার্ডেনস
আরটিভি/এমএম



