ঈদুল আজহার সময় গরু বা খাসির রান্না মাংস খেতে গিয়ে ছোট হাড় গলায় আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে তাড়াহুড়া করে খাওয়া, ভালোভাবে না চিবিয়ে গিলে ফেলা বা খুব ছোট ধারালো হাড় অসাবধানতাবশত গলায় চলে গেলে এই বিপত্তি ঘটে। এমন অনাকাঙিক্ষত বিপদে অনেকেউ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কী করবেন, আর কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে—জেনে রাখা জরুরি।
গলায় হাড় আটকে যাওয়ার কারণ?
কথা বলতে বলতে খেলে
তাড়াহুড়া করে খেলে
দাঁতের সমস্যা থাকলে
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে
খুব শুকনা বা শক্ত মাংস খেলে
করণীয়
গলায় হাড় বিঁধলে আতঙ্কিত হবেন না।
শান্ত ও স্থির হয়ে বসুন। কোনো সমস্যা না হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
পানি, নরম ভাত, কলা, ভেজানো রুটি খেতে পারেন। এতে করে হাড়টি নিচে নেমে যেতে পারে। তবে হাড় ধারালো হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই অনুভব করতে চেষ্টা করুন আটকে থাকা হাড়টি কেমন হতে পারে। অথবা টর্চ লাইট দিয়ে কেউ মুখের ভেতরে আটকে থাকা হাড় দেখার চেষ্টা করতে পারেন।
হালকা কাশি দিতে চেষ্টা করুন। এতে করে অনেক সময় হাড় সরে যায়।
সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে ভুক্তভোগীর পিঠে চাপড় দিন।
শ্বাসকষ্ট হলে প্রশিক্ষণ থাকলে হাইমলিখ ম্যানুভার দিতে পারেন। শ্বাসনালিতে খাবার, হাড় বা অন্য কোনো বস্তু আটকে গেলে এবং শ্বাস নিতে না পারলে এটি করা হয়। এর জন্য পেটের ওপর বিশেষভাবে চাপ প্রয়োগ করে আটকে থাকা বস্তুটি সরানোর চেষ্টা করা হয়।
জরুরি অবস্থা
শ্বাস নিতে না পারা।
কথা বলতে ও গিলতে সমস্যা হওয়া।
দম বন্ধ হওয়ার অনুভূতি।
এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হাড় আটকে থাকার অনুভূতি।
মুখ বা ঠোঁট নীলচে হওয়া।
গলা ব্যথা ও থুথুর সঙ্গে রক্ত আসা।
যা করবেন না
গলায় আঙুল দিয়ে খোঁচাখুঁচি করা যাবে না।
লেবুর রস খেলে হাড় গলে সমস্যা হয় এমন ধারণা ভুল। এটি করা এড়িয়ে চলুন।
শুকনো ভাত ও বড় খাবারের দলা গিলে হাড় সরানোর চেষ্টা করা বিপদজনক।
শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়িতে সময় নষ্ট না করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কখন হাসপাতালে যাওয়া জরুরি?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত জরুরি বিভাগে যেতে হবে—
কথা বলতে না পারা
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
লালা গিলতে না পারা
মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া
অতিরিক্ত কাশি বা দম বন্ধ হওয়ার অনুভূতি
বুকে ব্যথা
এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হাড় আটকে থাকার অনুভূতি
চিকিৎসকেরা প্রয়োজনে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে হাড় বের করেন। দেরি হলে খাদ্যনালিতে ক্ষত বা সংক্রমণ হতে পারে।
সচেতন থাকুন
এমন সমস্যা এড়াতে শিশু ও বয়স্কদের খাওয়ার সময় বাড়তি নজর রাখুন। প্রয়োজনে তাদের খাবারে ছোট ছোট হাড় আছে কিনা দেখে নিন। নিজে খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে মাংস চিবিয়ে খান। তাহলেই অনাকাঙিক্ষত এমন বিপদ থেকে নিজে ও পরিবারের সদস্যরা সুরক্ষিত থাকবেন।
আরটিভি/এমএম
আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে
Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়।
এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত।
তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না।
আরটিভি/এসআর
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
আরও পড়ুন
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করতে সরকারকে আইনি নোটিশ
পাবিপ্রবিতে মিলছে ১০ টাকায় গরুর মাংস, তৃপ্তির হাসি শিক্ষার্থীদের
ক্যালিফোর্নিয়ার ছুটির তালিকায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা