কোরবানির ঈদ মানেই গরু-খাসির মাংসের নানা সুস্বাদু পদ। কয়েকদিন ধরে এই স্বাদে মেতে উঠতে গিয়ে অনেকেই খেয়াল করেন না কতটা খাওয়া হচ্ছে। আর এর ফলেই দেখা দেয় অস্বস্তি—পেটের চারপাশে মেদ জমা, কাপড় আঁটসাঁট লাগা এবং ওজন বেড়ে যাওয়া।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু ছোট পরিবর্তন আনলেই ধীরে ধীরে এই বাড়তি মেদ কমানো সম্ভব।
পর্যাপ্ত পানি পান
মাংস বেশি খেলে শরীরের পানির চাহিদা বাড়ে। দিনে ৮–১০ গ্লাস পানি পান করলে হজম ভালো থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ
প্রতিদিনের খাবারে মাংস কমিয়ে শাকসবজি, সালাদ ও ডাল বাড়াতে হবে। এতে ক্যালোরি কমবে এবং পেটও দীর্ঘ সময় ভরা থাকবে।
নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস
প্রতিদিন ৩০–৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে মেদ কমায়।
চিনি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন
মাংসের সঙ্গে কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে শরীরে বাড়তি ক্যালোরি জমে। তাই এগুলো যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।
পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি
ঘুম কম হলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ক্ষুধা বেড়ে যায়। ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার
ডিম, মাছ, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল ও ওটস দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অপ্রয়োজনীয় খাওয়া কমায়।
হালকা ব্যায়াম করুন
প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চেস বা হালকা কার্ডিও ব্যায়াম পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। তবে পুরো শরীরের ব্যায়াম করাই সবচেয়ে কার্যকর।
রাতের খাবার হালকা রাখুন
রাতে ভারী মাংসজাত খাবার না খেয়ে হালকা সবজি বা সালাদ খেলে হজম সহজ হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় মাংস খাওয়া স্বাভাবিক হলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে পারে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চললে এই সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ




