গ্রীষ্মের আগমনে যেন ফলের উৎসবে মেতে ওঠে পুরো দেশ। বাজারজুড়ে সাজানো থাকে রসালো আম, সুগন্ধি লিচু, মিষ্টি কাঁঠাল, কালো জাম, জামরুল, লটকন, পেয়ারা, আতা, আনারসসহ নানা রকম মৌসুমি ফল। রঙ, স্বাদ আর ঘ্রাণে ভরপুর এসব ফলের ভিড়ে লিচু থাকে শিশু থেকে বয়স্ক—সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে। তবে সুস্বাদু এই ফল যতটা আনন্দের, অসাবধানতায় ততটাই বিপদের কারণও হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে লিচুর বীজ গলায় আটকে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই লিচুর মিষ্টি স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতাও।
প্রতিবছর লিচুর মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের গলায় লিচুর বীজ আটকে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, অসাবধানতার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
গলায় লিচুর বীজ বা অন্য কোনো বস্তু আটকে গেলে শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা শুরু হতে পারে। সে বারবার কাশি দিতে পারে, কথা বলতে বা শব্দ করতে না-ও পারে। অনেক সময় শিশুর মুখ ও ঠোঁট নীলচে হয়ে যায়, বমি বমি ভাব দেখা দেয় বা সে অস্থির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে শিশুটি জ্ঞানও হারাতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বড়দের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে পেটের ওপরের অংশে কয়েকবার জোরে চাপ দিতে হবে। এতে আটকে থাকা বস্তু বের হয়ে আসতে পারে। ছোট শিশু হলে তাকে উপুড় করে ধরে পিঠে কয়েকবার চাপড় দিতে হবে।
চিকিৎসকদের মতে, শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে শরীরে অক্সিজেন পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়। এতে মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাত থেকে বারো মিনিটের মধ্যে চিকিৎসা শুরু না হলে রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চললেই এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব। লিচু, জাম বা বিচিযুক্ত ফল সবসময় বীজ বের করে খাওয়ানো উচিত। ছোট শিশুদের কখনো একা এসব ফল খেতে দেওয়া ঠিক নয়। খাওয়ার পর বীজগুলোও শিশুর নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিচ্ছেন, গলায় কিছু আটকে গেলে আঙুল ঢুকিয়ে খোঁচানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে বস্তুটি আরও নিচে নেমে গিয়ে বিপদ বাড়তে পারে। একইভাবে জোর করে খাবার বা পানি খাওয়ানোর চেষ্টাও করা ঠিক নয়।
লিচু পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল হলেও শিশুদের খাওয়ানোর সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। একটু সচেতনতা ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপই পারে একটি দুর্ঘটনাকে বড় বিপদে রূপ নেওয়া থেকে রক্ষা করতে।
আরটিভি/জেএমএ



