সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই কৃতজ্ঞ হতে শেখানো জরুরি। কারণ কৃতজ্ঞতা শুধু ভদ্রতা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক গুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মুখে ধন্যবাদ বলতে শেখালেই শিশু কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে না। বরং অন্যের ভালোবাসা, যত্ন, পরিশ্রম ও সাহায্যের মূল্য বোঝার মধ্যেই প্রকৃত কৃতজ্ঞতার শিক্ষা লুকিয়ে আছে।
অনেক বাবা-মা সন্তানকে উপহার পেলে বা কেউ কিছু দিলে ধন্যবাদ বলতে শেখান। কিন্তু কেন ধন্যবাদ জানাতে হয়, সেই অনুভূতিটি শিশুর মধ্যে তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে বোঝাতে হবে, কৃতজ্ঞতা শুধু উপহার পাওয়ার সঙ্গে জড়িত নয়। মা-বাবার পরিশ্রম, শিক্ষকের সময় ও পরিবারের সদস্যদের যত্নের মূল্যও বুঝতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা কথার চেয়ে কাজ দেখে বেশি শেখে। তাই বাবা-মাকেই আগে কৃতজ্ঞতার চর্চা করতে হবে। ছোট ছোট বিষয়ে অন্যকে ধন্যবাদ জানানো, কারও সাহায্যের প্রশংসা করা কিংবা জীবনের ভালো দিকগুলো নিয়ে কথা বলা শিশুর মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শিশুকে অন্যকে সাহায্য করার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। কোনো বন্ধু তাকে সাহায্য করলে সেও যেন সুযোগ পেলে অন্যের পাশে দাঁড়ায়। এতে সে বুঝতে শিখবে, কৃতজ্ঞতা শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়।
এ ছাড়া সন্তানের মধ্যে ‘আমি কী পাইনি’ এই ভাবনার পরিবর্তে ‘আমি কী পেয়েছি’ সেই উপলব্ধি তৈরি করা প্রয়োজন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা জানানো কিংবা সামাজিক কাজে অংশ নিতে উৎসাহ দিলে সে নিজের প্রাপ্তির মূল্য বুঝতে শিখবে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুকে অচেনা মানুষের পরিশ্রমের মূল্যও শেখানো দরকার। যেমন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী বা পণ্য পৌঁছে দেওয়া কর্মীদের অবদান সম্পর্কে জানালে তার মধ্যে সহমর্মিতা ও সম্মানবোধ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃতজ্ঞতার শিক্ষা শিশুদের আরও সুখী, সহানুভূতিশীল এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। তাই শুধু ধন্যবাদ শব্দ শেখানো নয়, বরং সন্তানের হৃদয়ে কৃতজ্ঞতার অনুভূতি গড়ে তোলাই হওয়া উচিত পরিবারের প্রধান লক্ষ্য।
আরটিভি/জেএমএ



