ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আনন্দ ছাড়াই বারবার হাসির অদ্ভুত রোগের কথা শুনেছেন কখনও?  

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১১:০৬ এএম
হাসেন কিন্তু খুশি নন, রহস্যময় স্নায়ুর রোগে নিয়ন্ত্রণ হারায় আবেগ । ছবি: সংগৃহীত

কিছু মানুষ আছেন যারা প্রতিদিন হাসেন বা কাঁদেন, কিন্তু সেই হাসি বা কান্নার সঙ্গে তাদের আসল অনুভূতির কোনো মিল থাকে না। বাইরে থেকে দেখে মনে হতে পারে তারা আনন্দে ভাসছেন বা গভীর দুঃখে আছেন, কিন্তু বাস্তবে তারা সেই অনুভূতি অনুভবই করেন না। এই অদ্ভুত স্নায়বিক অবস্থার নামই পসুডোবালবার অ্যাফেক্ট বা পিবিএ।

কী এই পিবিএ রোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিবিএ একটি স্নায়বিক সমস্যা, যেখানে রোগীর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এতে হঠাৎ করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসি বা কান্নার পর্ব দেখা দেয়, যা পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কখনো কেউ দুঃখের কথা শুনে হেসে ফেলেন, আবার কখনো সামান্য ঘটনাতেই অস্বাভাবিকভাবে কেঁদে ফেলেন। এসব আবেগ কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় এবং রোগীর ইচ্ছার বাইরে ঘটে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

এই রোগ সাধারণত মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্নায়বিক রোগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। যেমন—

  • স্ট্রোক
  • পারকিনসন রোগ
  • আলঝেইমার
  • মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস
  • মস্তিষ্কে আঘাত
  • মৃগী রোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রোগে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পিবিএ দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন

কেন এমন হয়

গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হলে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে হাসি ও কান্নার মতো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদানের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়, যা আবেগের প্রকাশকে অস্বাভাবিক করে তোলে।

রোগটি কেন ধরা কঠিন

পিবিএ অনেক সময় বিষণ্ণতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। কারণ, দু’ক্ষেত্রেই কান্নার প্রবণতা দেখা যায়। তবে বড় পার্থক্য হলো, পিবিএ-তে আবেগের পর্বগুলো খুবই সংক্ষিপ্ত হয় এবং হঠাৎ শুরু ও শেষ হয়ে যায়।

অনেক রোগী নিজেরাই বুঝতে পারেন না যে এটি একটি আলাদা স্নায়বিক সমস্যা।

চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ

এই রোগ পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চিকিৎসকরা প্রথমে রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার পরামর্শ দেন।

প্রয়োজনে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা আবেগের অতিরিক্ত প্রকাশ কমাতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ স্নায়বিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা হাসি-কান্নার পর্বের তীব্রতা কমায়।

এছাড়া কিছু শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, মনোযোগ অন্যদিকে সরানো এবং শরীরের পেশি শিথিল রাখার কৌশলও উপকারী হতে পারে।

পিবিএ এমন একটি স্নায়বিক অবস্থা, যেখানে মানুষের অনুভূতি আর বাহ্যিক আচরণের মধ্যে বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো মানসিক দুর্বলতা নয়, বরং একটি চিকিৎসাযোগ্য স্নায়বিক সমস্যা।

সঠিক সময়ে শনাক্ত ও চিকিৎসা পেলে রোগীর জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: এভরিডে হেলথ


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
আরও পড়ুন
এবার কোটচাঁদপুরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা
মন ভালো রাখতে মানুন ৪ সহজ অভ্যাস
শেখ হাসিনার রায়ের প্রতিবাদে মধ্যরাতে নিষিদ্ধ যুবলীগের মশাল মিছিল
শেখ হাসিনা কালকেই আসুক, আমরা রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী