আনন্দ ছাড়াই বারবার হাসির অদ্ভুত রোগের কথা শুনেছেন কখনও?  

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬ , ১১:০৬ এএম


আনন্দ ছাড়াই বারবার হাসির অদ্ভুত রোগের কথা শুনেছেন কখনও?  
হাসেন কিন্তু খুশি নন, রহস্যময় স্নায়ুর রোগে নিয়ন্ত্রণ হারায় আবেগ । ছবি: সংগৃহীত

কিছু মানুষ আছেন যারা প্রতিদিন হাসেন বা কাঁদেন, কিন্তু সেই হাসি বা কান্নার সঙ্গে তাদের আসল অনুভূতির কোনো মিল থাকে না। বাইরে থেকে দেখে মনে হতে পারে তারা আনন্দে ভাসছেন বা গভীর দুঃখে আছেন, কিন্তু বাস্তবে তারা সেই অনুভূতি অনুভবই করেন না। এই অদ্ভুত স্নায়বিক অবস্থার নামই পসুডোবালবার অ্যাফেক্ট বা পিবিএ।

কী এই পিবিএ রোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিবিএ একটি স্নায়বিক সমস্যা, যেখানে রোগীর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এতে হঠাৎ করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসি বা কান্নার পর্ব দেখা দেয়, যা পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কখনো কেউ দুঃখের কথা শুনে হেসে ফেলেন, আবার কখনো সামান্য ঘটনাতেই অস্বাভাবিকভাবে কেঁদে ফেলেন। এসব আবেগ কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় এবং রোগীর ইচ্ছার বাইরে ঘটে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

এই রোগ সাধারণত মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্নায়বিক রোগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। যেমন—

  • স্ট্রোক
  • পারকিনসন রোগ
  • আলঝেইমার
  • মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস
  • মস্তিষ্কে আঘাত
  • মৃগী রোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রোগে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পিবিএ দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন

কেন এমন হয়

গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হলে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে হাসি ও কান্নার মতো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদানের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়, যা আবেগের প্রকাশকে অস্বাভাবিক করে তোলে।

রোগটি কেন ধরা কঠিন

পিবিএ অনেক সময় বিষণ্ণতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। কারণ, দু’ক্ষেত্রেই কান্নার প্রবণতা দেখা যায়। তবে বড় পার্থক্য হলো, পিবিএ-তে আবেগের পর্বগুলো খুবই সংক্ষিপ্ত হয় এবং হঠাৎ শুরু ও শেষ হয়ে যায়।

অনেক রোগী নিজেরাই বুঝতে পারেন না যে এটি একটি আলাদা স্নায়বিক সমস্যা।

চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ

এই রোগ পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চিকিৎসকরা প্রথমে রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার পরামর্শ দেন।

প্রয়োজনে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা আবেগের অতিরিক্ত প্রকাশ কমাতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ স্নায়বিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা হাসি-কান্নার পর্বের তীব্রতা কমায়।

এছাড়া কিছু শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, মনোযোগ অন্যদিকে সরানো এবং শরীরের পেশি শিথিল রাখার কৌশলও উপকারী হতে পারে।

পিবিএ এমন একটি স্নায়বিক অবস্থা, যেখানে মানুষের অনুভূতি আর বাহ্যিক আচরণের মধ্যে বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো মানসিক দুর্বলতা নয়, বরং একটি চিকিৎসাযোগ্য স্নায়বিক সমস্যা।

সঠিক সময়ে শনাক্ত ও চিকিৎসা পেলে রোগীর জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: এভরিডে হেলথ 


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission