অনেকেই মনে করেন শরীরে ব্যথা বা আঘাত লাগলেই সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ক্ষেত্রে এই ধারণা সঠিক নয়। অনেক সময় সঠিক নিয়ম মেনে হালকা ব্যায়াম করলে বরং দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব হয়।
বিবিসি মর্নিং লাইভ অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ ডা. কাস দর্শকদের প্রশ্নের উত্তরে আঘাত নিয়ে নিরাপদে ব্যায়াম করার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
আঘাতে কি পুরোপুরি বিশ্রাম প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথার কারণের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব ধরনের জয়েন্ট ব্যথায় সম্পূর্ণ বিশ্রাম জরুরি নয়। অনেক সময় জয়েন্টে সাপোর্ট বা সঠিকভাবে চলাচলই উপকারী হতে পারে।
আঘাত থেকে ফিরতে গেলে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে যে শরীরের ক্ষত সেরে উঠেছে এবং শক্তি ও চলাচলের সক্ষমতা ফিরে এসেছে। ধীরে ধীরে ব্যায়াম বাড়ানো শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায় এবং পুনরায় আঘাতের ঝুঁকি হ্রাস করে।
তবে বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময় শরীর নিজেকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করে।
পিঠে ডিস্ক সমস্যায় কী করবেন
মেরুদণ্ডের ডিস্ক সরে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার সমস্যাকে বলা হয় ডিস্ক স্লিপ। এতে পিঠে ব্যথা, পায়ে ঝিনঝিনি, অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কিছু হালকা ব্যায়াম এতে উপকারী হতে পারে। যেমন—
- কোমর হালকা করে টানা ব্যায়াম
- হাঁটু বুকের দিকে টেনে আনার ব্যায়াম
- পেলভিক টিল্ট ব্যায়াম
- নিয়মিত হাঁটা
এছাড়া গরম সেঁক ১৫ থেকে ২০ মিনিট দিলে পেশি শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
তবে দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকা, ভারী জিনিস তোলা বা শরীর ঘুরিয়ে নেওয়ার মতো কাজ এড়িয়ে চলা উচিত।
হিপ প্রতিস্থাপনের পর ব্যায়াম
হিপ প্রতিস্থাপনের প্রায় তিন মাস পর অনেকেই হালকা ব্যায়াম শুরু করতে পারেন। হাঁটা হলো সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি, যা ধীরে ধীরে শক্তি ও চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে।
পানি নির্ভর ব্যায়াম বা সাঁতার শরীরের ওপর চাপ কমায়। পাশাপাশি হালকা সাইকেল চালানোও উপকারী হতে পারে।
তবে দৌড়, লাফ বা উচ্চ চাপের ব্যায়াম প্রাথমিক পর্যায়ে এড়িয়ে চলা উচিত।
হাঁটু প্রতিস্থাপনের পর দৌড়ানো কি সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পুনর্বাসনের পর দৌড়ানো সম্ভব। তবে এটি সময়সাপেক্ষ এবং ধাপে ধাপে করতে হয়।
সহজ হাঁটা বা ধীর গতির ব্যায়াম পরিকল্পনা শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। পুনর্বাসন ব্যায়ামের মধ্যে রয়েছে—
- পায়ের পেশি শক্ত করা ব্যায়াম
- হিল স্লাইড ব্যায়াম
- পায়ের নড়াচড়া বাড়ানোর ব্যায়াম
নরম জুতা ব্যবহার, হাঁটু সাপোর্ট বা ফিজিওথেরাপি টেপও সহায়ক হতে পারে।
কঠিন ব্যথা বা ফুলে গেলে বরফ সেঁক ও পা উঁচু করে রাখা উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আঘাত মানেই সম্পূর্ণ থেমে যাওয়া নয়। সঠিক ব্যায়াম, ধীরে ধীরে অগ্রগতি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
শরীরের সংকেত বুঝে নিরাপদভাবে চলাই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



