ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

খাবার টেবিলে সন্তানের চেয়ে মোবাইলেই বেশি সময় দেন বাবা-মা, বলছে গবেষণা 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
খাবার টেবিলে সন্তানের চেয়ে মোবাইলেই বেশি সময় দেন বাবা-মা, গবেষণা  । ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, এটি সম্পর্ক মজবুত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু বর্তমানে সেই পারিবারিক মুহূর্তে জায়গা করে নিচ্ছে মোবাইল ফোন, টেলিভিশনসহ নানা ধরনের যন্ত্র। ফলে একই টেবিলে বসেও অনেক পরিবার একে ওপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সময় শিশুদের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মায়েরাই বেশি যন্ত্র ব্যবহার করেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৩৫০ জনের বেশি অভিভাবকের মধ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, পরিবারের শেষ একসঙ্গে খাওয়ার সময় কোনো না কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে মোবাইল ফোন।

শুধু বাবা-মা নয়, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭০ শতাংশও খাবারের সময় কোনো না কোনো যন্ত্র ব্যবহার করেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিসিলিয়া সাদা গারিবে বলেন, বর্তমানে যন্ত্রের ব্যবহার আমাদের জীবনে এমনভাবে ঢুকে গেছে যে অনেক সময় আমরা বুঝতেও পারি না এটি সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলছে। খাবারের টেবিলে বসে বারবার ফোন দেখা সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের মূল্যবান সময় কমিয়ে দিতে পারে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘জামা পেডিয়াট্রিকসে’।

আরও পড়ুন

একসঙ্গে খাওয়ার উপকারিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেলে শুধু খাবারের মান ভালো হয় না, মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়। নিয়মিত পারিবারিক খাবারের অভ্যাস শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, আবেগ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি করে এবং পরিবারের বন্ধন শক্ত করে।

টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক মার্গি স্কিয়ার বলেন, পারিবারিক খাবারের আসল উপকার খাবারের মধ্যে নয়, বরং একে অপরের সঙ্গে কথা বলা ও অনুভূতি ভাগ করার সুযোগে।

তার মতে, ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো শিশুদের মনে এই অনুভূতি তৈরি করে যে তারা পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মোবাইল কেন কমাচ্ছে পরিবারের সংযোগ?

গবেষকদের মতে, সব ধরনের যন্ত্র ব্যবহার একই রকম নয়। পরিবারের সবাই মিলে কোনো অনুষ্ঠান দেখা বা একসঙ্গে কিছু উপভোগ করা সম্পর্ক বাড়াতে পারে। কিন্তু প্রত্যেকে আলাদা আলাদা মোবাইল ব্যবহার করলে একই জায়গায় থেকেও সবাই আলাদা জগতে চলে যায়।

সিসিলিয়া সাদা গারিবে বলেন, আগে পরিবারের সবাই মিলে কোনো কিছু দেখা ছিল একটি যৌথ অভিজ্ঞতা। এখন সেই জায়গা দখল করছে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহার।

ফলে খাবারের টেবিলে বসেও বাবা-মা ও সন্তানদের মধ্যে কথা বলা, হাসি-আনন্দ ভাগ করার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

ব্যস্ত জীবনেও কীভাবে ফিরবে পারিবারিক সময়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন বড় আয়োজন করে পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে খাওয়ানো সম্ভব না হলেও ছোট ছোট কিছু অভ্যাস সম্পর্ককে শক্ত করতে পারে।

একসঙ্গে বসে মাত্র পাঁচ মিনিট গল্প করাও পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সন্তানের সঙ্গে তার দিন কেমন গেল, কী ভাবছে—এসব জানতে চাওয়াও সম্পর্ক গভীর করে।

পরিবারের খাবারের সময় অন্তত সপ্তাহে একদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য মোবাইল দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক অ্যান ফিশেল বলেন, নিয়মিত একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস পরিবারের মধ্যে নিরাপত্তা, পরিচয় ও ভালোবাসার অনুভূতি তৈরি করে।

ফোন নয়, হোক পরিবারের সঙ্গে সময়

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবসময় সম্ভব নয়। তবে পরিবারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ফোনের ব্যবহার কমিয়ে একে অপরের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

কারণ পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তই ভবিষ্যতে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও পারিবারিক বন্ধনের ভিত্তি তৈরি করে।

সূত্র: সিএনএন


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি