মাসিক একজন মেয়ের জীবনের স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে অনেক কিশোরী ও নারী মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, তলপেটে তীব্র ব্যথা এবং নানা ধরনের শারীরিক অস্বস্তির মুখোমুখি হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় সঠিক পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার এবং পারিবারিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, মাসিক শুরু হওয়ার পর একটি মেয়েকে শুধু বিষয়টি সম্পর্কে জানালেই হবে না, অন্তত ছয় মাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এতে মাসিক নিয়ে ভয়, উদ্বেগ এবং শারীরিক সমস্যাগুলো সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এ সময়ে আয়রনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ মাসিকের সময় শরীর থেকে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়। এজন্য নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা বলেন, মাসিকের শুরুর দিকে মেয়েদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং নিয়মিত সময়কাল লিখে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে মাসিকের অনিয়ম, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো সমস্যা সহজে বোঝা যায়। এছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে। ব্যথা বেশি হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে জটিলতার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।
মাসিকের সময় পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিষ্কার স্যানিটারি প্যাড বা পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার, নিয়মিত পরিবর্তন এবং ব্যবহৃত কাপড় সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম খাদ্য এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। তলপেটের ব্যথা কমাতে গরম পানির সেঁক উপকারী হতে পারে বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউনিসেফের পরামর্শ অনুযায়ী, মাসিকের সময় মেয়েদের পরিবার ও কাছের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্কুলে যাওয়া বা স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াও সম্ভব, যদি শারীরিক অবস্থা অনুকূলে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক কোনো লজ্জার বিষয় নয়। সচেতনতা, সঠিক পরিচর্যা এবং পুষ্টিকর খাবারই পারে মাসিককালীন অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



