ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিবছরই কেন ভাঙে নদীর পাড়? জানুন নদীভাঙনের আসল কারণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১১:১৪ এএম
প্রতিবছরই কেন ভাঙে নদীর পাড়? জানুন নদীভাঙনের আসল কারণ । ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা এলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় নদীভাঙন। এক রাতের মধ্যেই নদীগর্ভে হারিয়ে যায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তা, স্কুল, বাজার—কখনও কখনও পুরো একটি গ্রাম। প্রতিবছর হাজারো পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে বাধ্য হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নদীভাঙন কেন হয়? শুধু কি বর্ষার বৃষ্টিই এর জন্য দায়ী, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কারণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীভাঙন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, অপরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে এখন অনেক এলাকায় নদীভাঙন আগের তুলনায় আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

নদীভাঙন কী?

নদীর প্রবল স্রোত বা পানির চাপে নদীর পাড় ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাওয়াকে নদীভাঙন বলা হয়। এতে নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হতে পারে। একদিকে ভাঙন সৃষ্টি হলেও অন্যদিকে পলি জমে নতুন চর বা ভূমির সৃষ্টি হয়।

বর্ষায় কেন বাড়ে নদীভাঙন?

বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল, ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানির কারণে নদীতে স্রোতের গতি বেড়ে যায়। তখন নদীর বাঁক বা দুর্বল পাড়ে পানির চাপ বেশি পড়ে। ফলে মাটি ধসে নদীগর্ভে চলে যায়।

বিশেষ করে বড় নদীগুলোর তীরবর্তী এলাকায় এই সময় ভাঙনের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

আরও পড়ুন

নদীর স্রোত কীভাবে পাড় ভাঙে?

নদী কখনও সোজা পথে প্রবাহিত হয় না। বিভিন্ন জায়গায় বাঁক তৈরি হয়। বাঁকের বাইরের অংশে স্রোতের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই চাপের কারণে পাড়ের মাটি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। একসময় বড় অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।

মাটির ধরনও গুরুত্বপূর্ণ

সব ধরনের মাটি সমান শক্ত নয়। বালুমিশ্রিত বা আলগা মাটি খুব সহজেই পানির চাপে ভেঙে যায়। অন্যদিকে শক্ত কাদামাটি তুলনামূলক বেশি সময় টিকে থাকে।

বাংলাদেশের অনেক নদীতীর নরম পলিমাটি দিয়ে গঠিত হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি বেশি।

মানুষের কর্মকাণ্ডেও বাড়ছে ভাঙন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, নদীর তীর দখল, প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের মতো কর্মকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রে নদীভাঙনকে আরও তীব্র করে তোলে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের ঘটনা বেড়েছে। এতে নদীতে পানির প্রবাহ ও স্রোতের তীব্রতা বাড়ে। ফলে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

নদীভাঙনের প্রভাব

নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার বাড়িঘর হারায়। ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও বিভিন্ন স্থাপনা। অনেক মানুষ জীবিকা হারিয়ে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি হয়।

কীভাবে কমানো সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীভাঙন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, নিয়মিত নদী খনন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টেকসই তীররক্ষা ব্যবস্থা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং আগাম সতর্কতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রকৃতির নিয়ম, তবে সচেতনতা জরুরি

নদীভাঙন প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এর প্রভাব কমাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীকে তার স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হতে দেওয়া, পরিবেশ রক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনাই হতে পারে নদীভাঙনের ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
নদীভাঙন রোধে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর মানববন্ধন
যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি, হুমকিতে বহু পরিবার
ছোট ফেনী নদীর ভাঙন রোধে মানববন্ধন
নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, দিশেহারা মানুষ