হঠাৎ রক্তে সুগার কমলেই ঝুঁকিতে পড়ে মস্তিষ্ক, কীভাবে বাঁচবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৩:১৫ পিএম


হঠাৎ রক্তে সুগার কমলেই ঝুঁকিতে পড়ে মস্তিষ্ক, কীভাবে বাঁচবেন?
হঠাৎ রক্তে সুগার কমলেই ঝুঁকিতে পড়ে মস্তিষ্ক, কীভাবে বাঁচবেন? । ছবি: সংগৃহীত

রক্তে সুগার লেভেল বা শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে তা শুধু দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার কারণই নয়, কখনও কখনও মস্তিষ্কের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসকদের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি স্নায়ুর ক্ষতিও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় মস্তিষ্ক প্রায় পুরোপুরি গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মস্তিষ্ক নিজে গ্লুকোজ তৈরি বা জমা রাখতে পারে না। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে শুরু করে। এ কারণে দ্রুত লক্ষণ বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আগে শরীর কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়। যেমন—

আরও পড়ুন

১. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া ও শরীর কাঁপা
২. হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
৩. মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
৪. হঠাৎ তীব্র ক্ষুধা অনুভব করা
৫. উদ্বেগ বা অস্থিরতা তৈরি হওয়া
৬. বিভ্রান্তি, খিটখিটে মেজাজ বা ঝাপসা দেখা
৭. শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের মণি অস্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করা

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

কেন হঠাৎ সুগার কমে যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ, খাবার, ঘুম এবং শারীরিক পরিশ্রমের ভারসাম্য নষ্ট হলেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো—

১. ইনসুলিনের ভুল মাত্রা নেওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পর খাবার না খাওয়া
২. দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা
৩. অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম
৪. খালি পেটে মদ্যপান

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, লিভার বা কিডনির রোগী এবং নবজাতকদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

সুগার হঠাৎ কমে গেলে কী করবেন?

রোগী সচেতন থাকলে দ্রুত তিন চা-চামচ গ্লুকোজ গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে অথবা ফলের রস খাওয়ানো যেতে পারে। এরপর ১৫ মিনিট পর আবার রক্তের শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।

তবে রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যান বা কিছু খেতে না পারেন, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে জরুরি চিকিৎসা দিতে হবে।

সতর্ক থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

চিকিৎসকদের পরামর্শ, সময়মতো খাবার খাওয়া, ইনসুলিন বা ওষুধ চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করা, অতিরিক্ত খালি পেটে না থাকা এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার মাধ্যমে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কারণ, সময়মতো সতর্ক হলে মস্তিষ্ককে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা করা যায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission