বর্ষাকালে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই মনে করেন, বজ্রপাত বাইরে হলে ঘরের ভেতরে থাকলেই নিরাপদ। তবে বাস্তবে বজ্রপাতের সময় গোসল করা, কলের পানি ব্যবহার করা কিংবা তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের বিদ্যুৎ কেবল আকাশেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কোনো বাড়ি বা তার আশপাশে বজ্রপাত হলে সেই বিদ্যুৎ পানি সরবরাহের পাইপ, বৈদ্যুতিক তার বা অন্যান্য ধাতব সংযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বজ্রপাত চলাকালে গোসল করা বা কলের পানি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ কারণে বজ্রপাতের সময় শুধু গোসল নয়, হাত ধোয়া, বাসন ধোয়া কিংবা কলের পানি ব্যবহার করে এমন যেকোনো কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করাও নিরাপদ।
অনেকে মনে করেন, প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহারের কারণে এই ঝুঁকি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার কোথাও না কোথাও ধাতব সংযোগ থাকে। তাই পাইপ প্লাস্টিকের হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।
বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎবাহী পানির সংস্পর্শে এলে গুরুতর দুর্ঘটনা, এমনকি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদ্যন্ত্রের জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত চলাকালে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বজ্রপাত সম্পূর্ণ থেমে যাওয়ার পরও অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে গোসল বা পানি ব্যবহার করা উচিত। সামান্য অসতর্কতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বজ্রপাতের সময়ে যা করবেন না
> গোসল করবেন না।
> কলের পানি ব্যবহার করে হাত-মুখ বা বাসন ধোবেন না।
> তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করবেন না।
> ধাতব পাইপ বা ধাতব সংযোগ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
> বজ্রপাত থামার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে স্বাভাবিক কাজ শুরু করুন।
আরটিভি/এসকে




