হাতে-পায়ের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে অনেকেই নিয়মিত লোম তোলা, ক্ষুর ব্যবহার, ওয়াক্স করা বা বিভিন্ন প্রসাধনীর ওপর ভরসা করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি ঘরোয়া উপায়ও বেশ জনপ্রিয়। অনেকের বিশ্বাস, বেসন ও দুধের সর দিয়ে তৈরি মাস্ক নিয়মিত ব্যবহার করলে শরীরে লোম ওঠা কমে যায়। কিন্তু এই ধারণার কতটা সত্যতা রয়েছে?
প্রচলিত এই উপায়ে বেসনের সঙ্গে দুধের সর মিশিয়ে শরীরে লাগানো হয়। অনেকের দাবি, দীর্ঘদিন এটি ব্যবহার করলে শরীরে নতুন করে লোম কম গজায়। আগে শিশুদের শরীরেও বেসন, দুধের সর কিংবা চালের গুঁড়ো দিয়ে মালিশ করার চল ছিল। ধারণা ছিল, এতে ভবিষ্যতে শরীরে লোম কম ওঠে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, এই বিশ্বাসের পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বেসন বা দুধের সর লোমের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় বা লোমের গোড়ায় কোনো প্রভাব ফেলে— এমন তথ্য গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এই ধরনের মাস্ক ত্বকের ওপরের সূক্ষ্ম রোম ঘর্ষণের মাধ্যমে সাময়িকভাবে তুলে ফেলতে পারে। ফলে কিছু সময়ের জন্য ত্বক মসৃণ দেখায়। কিন্তু এটি রোমের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বা নতুন লোম গজানোর প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনে না।
তাই এই মাস্ক ব্যবহারের পর যদি মনে হয় লোম কমে গেছে, সেটি মূলত সাময়িক প্রভাব। স্থায়ীভাবে লোম কমানোর কোনো কার্যকর উপায় হিসেবে এটি প্রমাণিত নয়।
এছাড়া শিশুদের ত্বকে বা সংবেদনশীল ত্বকে যেকোনো ঘরোয়া মাস্ক ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকতে হবে। উপাদানগুলোর কারণে অ্যালার্জি বা ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই আগে অল্প জায়গায় ব্যবহার করে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/জেএমএ



