শিশু এক জায়গায় বসে থাকতে পারে না, পড়াশোনায় মন দেয় না, সব সময় ছটফট করে কিংবা ছোটখাটো কাজও গুছিয়ে করতে পারে না— এমন অভিযোগ অনেক বাবা-মায়ের কাছেই পরিচিত। অনেক সময় এসব আচরণকে সাধারণ দুষ্টুমি বা অবাধ্যতা মনে করে বকাঝকা করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব সময় বিষয়টি এতটা সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে থাকতে পারে মনোযোগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের একটি স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা।
কখন বোঝা যায় সমস্যা?
সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে অথবা শিশু স্কুলে যাওয়ার পর এই সমস্যার লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ স্কুলে দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকা, শিক্ষকের নির্দেশ মেনে চলা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা অনেক শিশুর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তখনই সমস্যাটি বেশি চোখে পড়ে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব শিশুর ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। সাধারণভাবে দুটি ধরনের আচরণ বেশি দেখা যায়।
ছটফটে ও অতি সক্রিয় আচরণ
এ ধরনের শিশুরা সব সময় দৌড়ঝাঁপ করে, অন্যের কথা বলার সময় বাধা দেয়, নিজের আবেগ বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং না ভেবেই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
শান্ত কিন্তু অমনোযোগী আচরণ
কিছু শিশু আবার খুব শান্ত স্বভাবের হয়। তারা সহজেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলে, প্রায়ই দিবাস্বপ্নে ডুবে থাকে, ছোটখাটো নির্দেশ ভুলে যায় এবং দৈনন্দিন কাজ গুছিয়ে করতে পারে না। সমবয়সীদের সঙ্গে তাল মেলাতে তাদের বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
কখন অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া উচিত?
যদি বারবার চেষ্টা করার পরও শিশু নিজের কাজ গুছিয়ে করতে না পারে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় বা নিয়ম মেনে চলতে সমস্যায় পড়ে এবং একই ধরনের অভিযোগ যদি বাড়ি ও স্কুল— দুই জায়গা থেকেই আসে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি যদি দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে সেটিকে শুধু দুষ্টুমি বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
বকাঝকা নয়, প্রয়োজন বোঝাপড়া
মনোবিদদের পরামর্শ, এমন আচরণের জন্য শিশুকে দোষারোপ বা শাস্তি না দিয়ে তার সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। সময়মতো সঠিকভাবে সমস্যা শনাক্ত করা গেলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়া হলে এই ধরনের শিশুরাও অন্য সবার মতো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ



